আজ একনেকে উঠছে দুই প্রকল্প

১৬ জুলাই ২০১৯, ১:৫৪:০৬

ঢাকা থেকে সহজেই গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে যাতায়াতের জন্য প্রথম বারের মতো ছয় জোড়া শাটল ট্রেন নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নেওয়া পৃথক দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ বিকেলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষেদের নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হচ্ছে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় এ একনেক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের একটি প্রকল্পের আওতায় হাইটেক পার্কের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে, বর্তমানে যার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। রাজধানী ঢাকা থেকে পার্কে যাতায়াত সহজ করতে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এবং ঢাকার মধ্যে শাটল ট্রেন চালুর লক্ষ্যে ডিইএমইউ (ডেমু) ট্রেন সংগ্রহ’ শীর্ষক ৪৫১ কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় এ রুটে মোট ছয় সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মালটিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন পরিচালনা করা হবে। অনুমোদন পেলে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকারের ‘ভিশন-২০২১’ এর আওতায় দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ঢাকার ৫৭ কিলোমিটার দূরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশের প্রথম এ হাইটেক পার্কে আইসিটি খাতের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিও সুযোগ পাবে। সেখানে বড় ধরনের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এজন্য হাইটেক পার্ক থেকে দূরবর্তী স্থানে বসবাসরত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম প্রধান ব্যস্ত মহাসড়ক। তাই এ রুটে যাতায়াত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।

এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে এ পথে রেলপথকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এজন্য হাইটেক পার্কের কাছেই একটি ‘বি’ ক্লাস রেল স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এ রুটে শালট ট্রেন পরিচালনার জন্য নতুন ছয় সেট ডেমু ট্রেন কেনা হবে। প্রকল্পের আওতায় ডেমু ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে হাইটেক পার্কটির কর্মচারী এবং এর আশপাশের মানুষের নিরাপদ, আরামদায়ক ও যানজটমুক্ত রেলের সেবা পাবেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর যানবাহনের বাড়তি চাপ হ্রাস পাবে।

অন্য দিকে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের কাজ শুরু হর ২০১৭ সালে নতুন করে ৯৭ একর জমি পার্কের আওতায় আসে। সব মিলিয়ে পার্কের মোট আয়তন ৩৫৫ একর। সেখানে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের কার্যক্রম চলমান আছে। নতুন যোগ হওয়া জমিতে বিনিয়োগের প্রাথমিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে নতুন একটি প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক সিটি-২ এ সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।