সাজ পোশাকে অনন্যা…

১৬ জুলাই ২০১৯, ৫:৫৭:২২

এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে এসো, কোমল শ্যামল ছায়। ঝুম বৃষ্টি দেখতে দেখতে পছন্দের গানের সঙ্গে যদি হাতে কবিতার বই থাকে তাহলে সেসময়টাই অন্যরকম হয়ে যায়। বৃষ্টিতে ভিজতেও লাগে বেশ।

সাজ পোশাকের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ সর্ববিদিত। পরতে স্বস্তিদায়ক আর দেখতেও আকর্ষণীয় পোশাকের প্রতি রয়েছে মেয়েদের সহজাত দুর্বলতা। গাউন, টপস, টি-শার্ট, শার্ট এ পোশাকগুলো আধুনিক তরুণীদের অহরহই পরতে দেখা যায়। শুধু তরুণীরাই নন, সব বয়সী নারীদের কাছেই আকর্ষণীয় পোশাক কম-বেশি পছন্দের।

পোশাকের সঙ্গে চুলের বিন্যাস এবং নানা স্টাইলে চুল বাঁধার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক বাছাই স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ইচ্ছেমত পোশাক পরলেও সব জায়গায় সব ধরনের ড্রেস পরে যাওয়া ঠিক না। যেমন ক্লাসে বা অফিসে নিশ্চয়ই গাউন পরে যাওয়া যাবে না। সময় এবং স্থান বুঝেই পোশাকটি বেছে নিতে হয়। ক্লাস কিংবা বাইরের কাজে জিন্স, টি-শার্ট পরতে পারেন। অফিসের জন্য ফর্মাল শার্ট-প্যান্ট ও মানানসই। বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা চা-এর দাওয়াতে জিন্স, টপস বা কুর্তি অনেককেই ভালো মানাবে। আবার জমকালো কোনো পার্টিতে একটু ভারি গাউন হলে দারুণ জমে যাবে। পোশাকের সঙ্গে সাজটিও হতে হবে মানানসই।

আকাশের মন খারাপের এই দিনগুলোতে সাধারণত কেউ শাড়ি পরতে চান না। দিনভর টুপটাপ বৃষ্টির এই মেঘলা দিনে শাড়ির ওপর ভরসা করাটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই বলে তো বাঙালির এই ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে বরষা চলে না। মন খারাপের এই দিনগুলোতে রং-বেরঙের শাড়ি কিন্তু মন ভালো করে দিতে পারে। আবার পূর্ব-পশ্চিমের মিশেলের পোশাকেও যেমন আভিজাত্য প্রকাশ পায় তেমনি ফ্যাশনেও আনে বৈচিত্র্য।

এক সময় তাঁত, টাঙ্গাইলের শাড়ি ছিল বাঙালিদের আভিজাত্যের সাজ। এখন আর সেই জায়গায় নেই। মেয়েরা এখন নিত্যনতুন লুক নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। আবার শুধু শাড়ির আঁচলের মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে নারাজ অনেক ফ্যাশনসচেতন রমণী। বারো হাতের শাড়িতে অনভ্যস্ত রমণীরা অন্যান্য ভূষণে নিজেরা সেজে উঠতে চান পূর্ব-পশ্চিমের মিশিলের পোশাকে।

বর্তমানে সব বয়সী রমণীদের পছন্দে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ভূষণের পোশাক। তবে, এর বাইরেও বাঙালি নারীর প্রথম চিরায়িত প্রেম শাড়ি যার কোনো বিকল্প হয় না। অফিস, বাসা, কিংবা বন্ধুদের আড্ডা অনুষ্ঠানে শাড়িই বেছে নেন অনেকে। পোশাক যাই হোক কেন, সেই শাড়িকে সবার সামনে নতুন করে উপস্থাপন করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। এ সময়টায় সাজ-পোশাকে থাকা চাই সামঞ্জস্যতা। কেননা, হঠাৎ বৃষ্টি হঠাৎ রোদ। এই ঠাণ্ডা এই গরমের বর্ষায় থাকা চাই একদম ফিট।

সাধারণত বৃষ্টিতে উজ্জ্বল রঙের পোশাকই বেশি মানানসই। বলা ভালো, বর্ষার প্রকৃতি যেমন ক্রমে ক্রমে রং বদলায়। বিশেষ করে মেঘলা দিনে খানিকটা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরাই শ্রেয়। একইভাবে রোদেলা হাসির দিনেও উজ্জ্বল পোশাক ভালো মানায়। তবে পোশাকের রঙের উজ্জ্বলতা যেন দৃষ্টিকটু না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। যেমন— মেজেন্টা, বেগুনি, গাঢ় সবুজ বা কলাপাতা সবুজ, নীল, লাল, হলুদ রংগুলো দারুণ লাগবে। অন্যান্য রঙের ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন ব্রাউন, নেভি ব্লু, রেড, মেরুন, অলিভ।

কোকো শ্যানেলের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, “ A girl should be two things- Classy and Fabulous”. কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমরা কয়জন এটার অর্থ বুঝি। একজন নারীকে সবার মাঝেও অনন্যা হয়ে উঠতে কী লাগে? দামি জামাকাপড়? ব্র্যান্ডের মেকাপ? বা ফর্সা রঙ? না, এসব কিছুই লাগেনা। ব্যবহার, আচরণ, বুদ্ধিমত্তা এসব মিলিয়ে যখন নিজেকে তুলে ধরতে পারবে তখনই সে হয়ে উঠবে অনন্যা, সবার মাঝে আলাদা।

সুন্দর হতে হলে খুব ফর্সা গায়ের রঙ বা চেহারার গঠন যতটা ভূমিকা রাখে, তার চেয়ে বেশি জরুরি একটা মেয়ে নিজেকে কতটা সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখছে সেটা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।