২৩ জেলার বন্যায় দুর্গত কয়েক লাখ মানুষ

১৬ জুলাই ২০১৯, ৮:২০:০৩

টানা নয় দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন দুর্গত এলাকা। এ পর্যন্ত ১৫ জেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সিলেট, সুনামঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এই ১১টি জেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে। বাকি জেলাগুলোর অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে যাচ্ছে।

বন্যার কারণে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক লোক। এরই মধ্যে পানিতে ডুবে কুড়িগ্রামে তিনজন এবং সিরাজগঞ্জে একজন মারা গেছেন। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের ২৩টি পানি সমতল স্টেশনে ১৩টি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলছেন, সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেশ কিছু অঞ্চলে পানি নেমে গেছে। বেশকিছু জায়গায় পানি বেড়েছে। তবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর মধ্যাঞ্চলে অবনতি হয়েছে।

পানি বাড়ার প্রবনতা দু’একদিনের মধ্যে কমে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

আরিফুজ্জামান বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।

বাংলাদেশ অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর এখনও সক্রিয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। তাই দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. শামসুদ্দীনের দেওয়া তথ্য মতে, দেশের বন্যা উপদ্রুত ২৩টি জেলায় এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে। আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে তিন কোটি ১৭ লাখ টাকা। শুকনো খাবারের ব্যাগ দেয়া হয়েছে ৮৪ হাজার। বন্যার সঙ্গে যেহেতু অতিবর্ষণও আছে তাই, ১৫টি জেলায় সাড়ে সাত হাজার তাঁবু পাঠানো হয়েছে।

বন্যার জন্য প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট কারণও আছে বলে মনে করেন পরিবেশ বিদ ড. আতিক রহমান।

তিনি বলেন, আগের মতো নদীর বহমানতা বা নেভিগেশন থাকলে চট করে পানিটা চলে যেত। এখন যেটা হয়েছে, পলি মাটি আসায় নদীর তলানিটা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানিটাকে আর ধরে রাখা যায় না, সেটা ছড়িয়ে যায়। ফলে বন্যা বাড়তে থাকে। সমপরিমাণ বৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি বন্যা হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় দেশ অনেকখানি এগিয়ে গেছে বলেও মনে করেন ড. আতিক। তাই মানুষের জীবনের ক্ষতিটা অনেক কমে গেছে। কিন্তু দেশের সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।