প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ: কাদের

২২ জুলাই ২০১৯, ১২:০৬:৫৩

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কোন উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলেছেন, তার বক্তব্যের পেছনে অন্য কারও হাত আছে কিনা, দেশে ফিরলে সে বিষয়ে প্রিয়া সাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বিষয়ে আমরা রয়েসয়ে এগোতে চাই। মশা মারতে আমরা কামান দাগাতে চাই না। তবে বিষয়টি আমরা তুচ্ছ মনে করছি না।

আজ সোমবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রিয়া সাহা কার প্ররোচনায় এ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, তার গভীরে আমরা যাব। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কিনা দেশে ফেরার পর তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অবাক হওয়ার বিষয় হলো- প্রিয়া সাহা তার মিথ্যা বক্তব্যের ব্যাপারে অটল রয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে টেনে এনেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখনই তিন কোটি ৭০ লাখ গুমের তথ্য দেননি।’

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হারিয়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন আলোচিত-সমালোচিত প্রিয়া সাহা।

সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনকারী বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশে।

এর আগে শনিবার (২০ জুলাই) আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজধানীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের বিরুদ্ধে অসত্য, দেশদ্রোহীমূলক বক্তব্য দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। প্রিয়া সাহা আওয়ামী লীগ ও এর কোনও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্রস্তুতি চলছে।

কাদের বলেন, প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ভিডিও দেখেছি, এ ভিডিও কীভাবে ছড়ালো বুঝলাম না। প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য।

তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান যারা আছেন কেউই এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন না। তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

গেল ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেন। এতে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আর এখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের, বাংলাদেশের জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।সতিনি আরও বলেন, এখনও এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমাদের অনুরোধ দয়া করে আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু সাহায্য করুন প্রেসিডেন্ট।

এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান। এসময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে? ট্রাম্পের ওই প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।