১ লাখেরও বেশি চামড়া রাস্তায় ফেলে নজিরবিহীন প্রতিবাদ (ভিডিও)

১৪ আগস্ট ২০১৯, ১০:০২:০৪

কোরবানির পর পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছে মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কম দামে চামড়া কিনেও বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এমনকি পরিবহনের খরচটাই তুলতে পারছেন না তারা।

তাই রাগে-ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে চামড়া কেটে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যাতে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা পরে এসব চামড়া ব্যবহার করতে না পারেন।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লাখখানেক কোরবানির পশুর চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। নগরীর আতুরার ডিপো, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকা থেকে এসব চামড়া সরিয়ে পুতে ফেলার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

‘বহদ্দারহাট মোড় থেকে চার ট্রাক চামড়া সরিয়েছি। আতুরার ডিপো ও মুরাদপুর এলাকায় প্রায় ৭০ ট্রাকের মত চামড়া হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ আরেফিন নগর এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত আবর্জনা ফেলার স্থানে এসব চামড়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে গর্ত করে সেগুলো পুঁতে ফেলা হবে।

চট্টগ্রাম আড়তদার সমবায় সমিতি এবার সাড়ে পাঁচ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে চার লাখ গরুর, এক লাখ ১২ হাজার ছাগল, ১৫ হাজার মহিষ ও ১৫ হাজার ভেড়া চামড়া।

তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমিতির নেতারা বলছেন, তারা লক্ষ্য মাত্রার ৬০ শতাংশের মত চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা প্রায় ১৫ শতাংশ চামড়া বিক্রি হয়নি। আর জেলার দূরবর্তী এলাকায় থাকা প্রায় ২৫ শতাংশ চামড়া এসে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন লাগবে।

ফটিকছড়ি আতুরার ডিপো এলাকায় আসা মৌসুমী ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, চামড়া কিনেছি ৩০০ টাকা দরে। এখানে দাম বলছে ৫০ টাকা করে। ‘দুপুরের পর আর ৫০ টাকাতেও কেউ কিনছে না। তাই চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে যাচ্ছি।’

বোয়ালখালী থেকে চামড়া নিয়ে বহদ্দারহাট এলাকায় এসেছিলেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, গতরাতেও দুয়েকজন চামড়া কিনতে চেয়েছিল। আজকে আর কেউ নিতে চাইল না। ২০-৩০ টাকায়ও কেউ নিচ্ছে না। গাড়ি ভাড়া দিয়ে যে এসেছি সেটাও লস। চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কতক্ষণ আর বসে থাকা যায়। তাই রাস্তায় রেখেই চলে যাচ্ছি।

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এসব এলাকায় রাস্তায় চামড়া রেখে চলে যান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। রাস্তার পাশে ফুটপাত ঘেঁষে হাজার হাজার চামড়ার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃষ্টিতে চামড়া থেকে বের হওয়া পানি সড়কে গড়িয়ে যাচ্ছিল। বিকেল থেকে শুরু হয় দুর্গন্ধ। তবে দুর্গন্ধ ঠেকাতে চামড়ায় ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিসিসি।

এবার চট্টগ্রামে ১০-১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হতে পারে বলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের কয়েক বছরের বকেয়া পাওনা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ঈদের আগে অল্প কিছু টাকা তারা দিয়েছে। টাকার অভাবে চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি।

কাদের বলেন, সমিতির সদস্য ১১২ জন আড়তদার। এর বাইরে আরো ১৫০ আড়তদার আছেন চট্টগ্রামে। এবার শুধু ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পেরেছেন।

সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আগে জানালে এবং কোরবানির আগে বকেয়া পরিশোধে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা হতো না।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।