অবশেষে সেই টাইগারকে জবাই করে মাংস বিক্রি

২৫ আগস্ট ২০১৯, ৪:৪৯:৪১

এবারের কোরবানি ঈদে আলোচিত গরুর তালিকায় সবার উপরে ছিল ‘বস’, ‘মেসি’, ‘টাইটানিক’, ‘সিনবাদ’, ‘পালসার বাবু’ ও ‘টাইগার’ সহ বেশ কয়েকটি বিশাল আকারের গরু। কোরবানির হাটে এই বিশাল ওজনের গরু গুলো গোটা দেশেব্যাপী সারা ফেলে দিয়েছিল। তবে এদের মধ্যে ঈদে ‘টাইগার’ অবিক্রিত থেকে যায়।

৩০ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়ে আলোচনায় আসা ৪২ মণ ওজনের সেই ষাঁড় ‘টাইগার’কে অবশেষে জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গোয়াল ঘরে পা পিছলে দুই পা ভেঙে যাওয়ায় এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে গরুটি। এতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন টাইগারের মালিক মিনারুল ইসলাম ও স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা। ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি।

পরে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও কিছুটা লোকসান ঠেকাতে প্রিয় ষাঁড় গরুটি জবাই করতে বাধ্য হন মালিক মিনারুল ইসলাম। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে টাইগারের মাংস বিক্রি করা হয়।

এ খবর শুনে মিনারুলের বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। প্রিয় গরুটির জন্য স্বজন, গরু লালন পালনকারী শ্রমিক, উপস্থিত মানুষদের অনেকের চোখই ছিল অশ্রুসজল।

৫০০ টাকা কেজি দরে মাংস কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ক্রেতার সমাগম ঘটেছে। মাংস কাটায় নিয়োজিত কসাই জানান, সব মিলিয়ে ২৫-২৬ মণ মাংস হতে পারে। সেই হিসেবে দাম আসবে পাঁচ লাখ টাকা।

ষাঁড় গরুটির মালিক মিনারুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল চারটার দিকে গোয়াল ঘরে পা পিছলে পড়ে যায় টাইগার। এতে পিছন ও সামনের ডান পা দুটি ভেঙে যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে টাইগার। পরে স্বজন ও প্রতিবেশী সবার পরামর্শে জবাই করে মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিনারুল ও তার স্ত্রী জাকিয়া বলেন, টাইগারকে সন্তানের মতো লালন পালন করতাম। তাকে এভাবে হারাতে হবে বুঝতে পারিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে। সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।

উল্লেখ্য, ৯ ফুট দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটির ওজন হয়েছিল ৪২ মণ। কালো আর সাদা রঙ মিশ্রিত সুঠাম স্বাস্থ্যর অধিকারী ষাঁড় গরুটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টাইগার’। কোরবানির আগে টাইগারের দাম ৩০ লাখ টাকা হেঁকে আলোচনায় আসেন খামারী মিনারুল ইসলাম।

এ বছর ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঈদুল আযহার হাটে টাইগারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৮ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন খামারি মিনারুল। ইচ্ছা ছিল আরো এক বছর লালন পালনের পর আগামী ঈদুল আযহায় টাইগারকে বিক্রি করা। কিন্তু তার সে ইচ্ছা আর বাস্তবায়ন হলো না। অনেক টাকা লোকসান হলো বলে দাবি মিনারুলের।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।