সহজ জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০০:১৫

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ রান ছিলো ১৬৮ তবে তা আজ দাঁড়িয়েছে ১৭৫। তাই রের্কড গড়া ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে জিততে হলে ১৭৬ করেই জিততে হতো। কিন্তু নির্ধারিত ২০ ওভার সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। যার ফলে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে পৌছে যায় বাংলাদেশ।

এই স্কোর তারা করতে নেমে শুরুতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পরে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইন। প্রথম ওভারেই সাইফউদ্দিনের চকম। গত ম্যাচে ইংসের শুরুতেই প্রথম বলে পেয়েছিলেন উইকেট এবার পেলেন পঞ্চম বলে। সাইফউদ্দিনের করা সুইং ডেলিভারীটি লং অফ দিয়ে ছক্কা হাকাতে চেয়েছিলেন ওপেনার ব্রেন্ডন টেলর কিন্তু টপ এজে বল যায় মিড অফে। তখনই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বল বলটি তালু বন্দী করেন।

এরপর জিম্বাবুয়ে শিবিরে সাকিবের আঘাত তার শিকার ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান চাকাবা। সাকিবের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন এই ব্যাটসম্যান। আর দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেই চমক দেখালেন শফিউল ইসলাম। এই বোলারের প্রথম বলই শর্ট বল উড়াতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন সন উইলিয়ামস। আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন ৫ বলে মাত্র ২ রান। যার ফলে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পরেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আর রায়ান বার্ল ফিরে ১ রান করে। সবাই যখন ব্যাট হাতে ব্যার্থ তখন দলের জন্য একাই খেলেছেন টিনোটেন্ডা মুটুমবডজি। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লজ্জা জনক হার থেকে রক্ষা পায়। শেষের দিকে আর কেউই কাইল জারভিস ছাড়া আর কেউই উইকেটে দারাতে পারেনি।

এর আগে চট্রগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু দারুণ করেন দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ে বোলারদের ধীর গতিতে খেলতে থাকেন শান্ত। অন্যপ্রান্তে থাকা লিটন দাস খেলতে থাকেন বিধ্বস্ত ভাবে।

তবে দলীয় ৪৯ রানে জারভিসের স্লোয়ার ডেলিভারীতে ফিরতি ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত। আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার করেন ৯ বলে মাত্র ১১ রান। এরপর লিটনকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কিন্ত দুর্দান্ত খেলা লিটন দাস ইনিংস বড় করতে পারেননি। এমপোফুর লেগ স্ট্যাম্পের ওপরের বল চালাতে গিয়ে টপ এজ হন। শর্ট ফাইন লেগ থেকে দৌড়ে ফাইন লেগে গিয়ে বল তালুবন্দি করেন মাদজিভা।

আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন ২২ বলে ৩৮ রান। লিটন আউট হওয়ার পরেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন। সাকিব আউট হওয়ার পরে চাপে পরে বাংলাদেশ কিন্তু সেই চাপ দূর হয় মিস্টার ডিপেন মিস্টার ডিপেনডেবল খ্যাঁত মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে। তবে দলীয় ১৪৩ রানে ২৬ বলে ৩২ রান করে সাজঘরে ফিরে যায় মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ সঙ্গী হিসাবে ক্রিজে আসেন আফিফ হোসেন কিন্তু এবার বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আট বলে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র সাত রান। আর মাহমুদউল্লাহ ইনিংস থামে ৪১ বলে ৬২ রান করে। শেষের দিকে মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে ১৭ রান

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ১৩৬/১০ (২০ ওভার)

বাংলাদেশ: ১৭৫/৭ (২০ ওভার)

টার্গেট:১৭৬

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, নেভিল মাদজিভা, টিনোটেন্ডা মুটুমবডজি, টনি মুনিয়োঙ্গা, কাইল জারভিস, টিমাইসেন মারুমা, রায়ান বার্ল, এমপোফু ও রিচার্ড মুতুম্বাবি।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।