আবরার হত্যা: প্রযুক্তিগত তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছে অমিত সাহা

১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৫৮:৩৭

আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে অমিত সাহার নাম ছিল না। কিন্তু ঘটনার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের ১৫ ও ১৬ ব্যাচের নেতাকর্মীদের ‘এসবিএইচএসএল-১৫+১৬’ নামের গ্রুপ মেসেঞ্জারের কথোপকথন ফাঁস হয়ে যায়। এরপরই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬ ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার বিষয়টি আলোচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে ডিবি তাকে গ্রেফতার করে। পরে ছাত্রলীগও তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।

গ্রেফতার বিভিন্ন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তদন্তে পাওয়া তথ্যে সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নিজেদের গ্রুপ মেসেঞ্জারে অমিত সাহা তথ্য পায় আবরারকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়েছে। তখন সে ফোনে ও মেসেঞ্জারে সেখানে উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীদের তাকে পেটানোর নির্দেশ দেয়। এক পর্যায়ে তাকে জানানো হয়, আবরার বমি করছে। ও ভান করছে জানিয়ে অমিত সাহা তাকে আরও পিটিয়ে তথ্য নিতে বলে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, চার্জশিটে অমিত সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হবে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘দুষ্কর্মে সহায়তা করা হয়েছে, সহায়তার দরুন সে কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকলে এবং সেক্ষেত্রে দণ্ডদানের কোনো স্পষ্ট বিধান না থাকলে অনুরূপ সহায়তার সাজা।’

উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে শিবির সন্দেহে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ যাচাই করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। রাত ৮টা থেকে আনুমানিক দেড়টা পর্যন্ত আবরারকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও রশি দিয়ে দফায় দফায় পেটানো হয়। এক পর্যায়ে সে মারা যায়। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।