পদত্যাগের দুই মাস পর মুখ খুললেন বিএনপি নেতা মাহবুব

৮ নভেম্বর ২০১৯, ৮:৩৩:১০

বিএনপির স্থায়ী সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল (ইব) মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। তবে রহস্যের কথা হল তিনি পদত্যাগ করেছেন দুই মাস আগে যা তিনি এতদিন গোপন রেখেছিলেন। বুধবার (৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে তিনি মিডিয়ার কাছে পদত্যাগের কথা জানালেও আবার কোন কোন মিডিয়ার কাছে তিনি তা অস্বীকার করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের অন্য নেতারাও তার পদত্যাগ নিয়ে কোন কথা বলছেন না। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এখন রাজনীতি করি না। রাজনীতি থেকে সরে এসেছি। আমি রিজাইন করেছি দল থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। দেড় মাস থেকে দুই মাস আগে আমি পদত্যাগ করেছি। কারণ হচ্ছে আমি বয়স্ক মানুষ। সামনের ডিসেম্বরে ৮০ বছর পূর্ণ হবে। রাজনীতি করার মতো আমার কিছু নেই।’

জানা যায়, লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জাতীয়তাবাদী জাতির পিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান তারেক রহমানের এ কথা মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি এর বিরোধিতা করেন। এ ছাড়া তিনি মাঝেমধ্যে তারেক রহমানের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখতেন। একসময় তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে তারেক রহমানকে দেশে এসে করতে হবে।

লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমানের এ ধরনের কথা শুনে তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হন। ২ মাস আগে দলের একটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমান মাহবুবুর রহমানকে পদত্যাগ করতে বলেন। তারেক রহমানের এ কথা ধরে আরও ক’জন স্থায়ী কমিটির সদস্য তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহবুবুর রহমান হাতের লেখা একটি পদত্যাগপত্র বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে স্থায়ী কমিটির আর কোন বৈঠকে তিনি উপস্থিত হননি। তবে বিএনপির নেতা হিসেবে মিডিয়ার সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা বলতেন তিনি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য পদত্যাগ করলে সেটা স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে জানানোর কথা। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করারও বিষয় আছে। তবে মাহবুব সাহেব পদত্যাগ করেছেন কি না তা আমাদের জানা নেই।

সূত্রমতে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর মাহবুবুর রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি চেয়েছিলেন দেশে অবস্থান করেন এমন কোন সিনিয়র নেতা এ পদে থাকুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাহবুবুর রহমান বলেন, এ নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা হওয়ায় লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমানের প্রতি আগে থেকেই তারেক রহমানের ক্ষোভ ছিল। এরপরও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মাহবুবুর রহমানকে স্থায়ী কমিটিতে রাখার বিষয়টি তারেক রহমান মেনে নিতে পারেননি। তাই খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর মাহবুবুর রহমান যখন তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে সমালোচনা করতে থাকেন তখন তারেক রহমানও মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে সরিয়ে দেয়ার প্লান করেন।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।