তারল্য সমস্যায় খুঁড়িয়ে চলছে পুঁজিবাজার

১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৯:০৪

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার। তারল্য বা নগদ অর্থের প্রভাব নেই বললেই চলে। দীর্ঘ সময় ধরে চলামান এই সমস্যার সমাধানে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে একই বৃত্তে ঘুরছে পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বর্তমান পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো বিনিয়োগই স্থায়িত্ব পাচ্ছে না। বরং প্রতিনিয়তই পোর্টফোলিও শুন্যের দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে বিনিয়োগ নিয়ে হতাশা।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনে শেষে দেখা গেছে চলতি মাস ডিসেম্বরের আট কার্যদিবসে পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে প্রায় ২৫২ পয়েন্ট। আর লেনদেন ৫শ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে ৩০০ কোটি টাকায়। যদিও সোমবার লেনদেন হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা। লেনদেনের এমন অচলাবস্থায় কমেছে তালিকাভুক্ত সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর। মঙ্গলবার পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের। প্রকৌশল খাতের ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠানের। বীমা খাতের ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১১টি কোম্পানির আর তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩টি ফান্ডের।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগের দিনের মতো মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। তবে ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে। যা গত ৪১ মাস মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১২ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৮ পয়েন্টে। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩০৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। এদিন ডিএসইতে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ২০৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৬৮৩ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অংকে ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী মোজাম্মেল হক জানান, পুঁজিবাজারের বর্তমান যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কোনভাবেই সুরক্ষিত থাকছে না। যে কোম্পানির শেয়ারের দর কম পরদিন সেই শেয়ারের দর আরো কমে যাচ্ছে। ফলে কম দামি শেয়ারে বিনিয়োগ করে যে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ডিএসইর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা বাজারে কার্যকর হচ্ছে না। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য আইসিবি আছে। একই সাথে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও কার্যকর ভ‚মিকা রাখার কথা। বাস্তবে পুঁজিবাজারের মন্দা দীর্ঘায়িত হলেও বাজার চাঙ্গা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। ফলে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কয়ারফার্মা কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৮৭ টাকায়। যেখানে এক মাস আগেও এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪২ টাকায়। এই সময়ে শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫৫ টাকা। এবি ব্যাংকের অবস্থা আরো নাজুক। তিন মাসে আগে যেখানে এবি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ১০ টাকার বেশি। সেখানে তিন মাস পর প্রতিটি শেয়ারের দর নেমে এসেছে ৭ টাকায়। গেল একমাসে আজিজপাইক কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১৩ টাকা। একমাস আগে আজিজ পাইপ কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৪০ টাকা। বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১২৭ টাকায়।

ব্যাংক এশিয়া কোম্পানির তিন মাসে শেয়ার প্রতি দর কমেছে ২ টাকা। তিন মাস আগে এই ব্যাংকের শেয়ার প্রতি দর ছিল ২০ টাকা। বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৮ টাকায়। বাটা সু কোম্পানির ক্ষেত্রেও একইভাবে শেয়ারের দর কমেছে। এক মাসে এই কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে প্রায় ২০০ টাকা। এক মাস আগে বাটা সু কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর ছিল ৭৯৪ টাকা। বর্তমানে তা লেনদেন হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। বেক্সিমকোর ক্ষেত্রেও শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৩ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ১৪ টাকা। এক মাস আগেও যা লেনদেন হয়েছে ১৭ টাকায়।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।