কিশোরের ঘাড় ছিদ্র করে ফেলল সমুদ্র থেকে লাফিয়ে ওঠা মাছ

২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:২৫:২৭

সমুদ্রের পানি থেকে লাফিয়ে উঠা একটি মাছের আঘাতে ঘাড় ছিদ্র হয়ে গেলো এক কিশোরের। মুহম্মদ ইদুল নামের ওই কিশোর বন্ধুর সঙ্গে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এমন বিপত্তিতে পড়ে। ১৬ বছর বয়সী ইন্দোনেশিয়ার ওই কিশোরকে সূচের মত তীক্ষ্ণ মাথার একটি ‘নীডলফিশ’ সমুদ্র থেকে লাফিয়ে উঠে ঘাড় এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলে এবং সেই মাছের ধাক্কায় নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যান তিনি। জীবন বাঁচাতে ওই অবস্থাতেই তীরের দিকে সাঁতার শুরু করেন এবং তীরে পৌঁছে হাসপাতালের দিকে দৌড় শুরু করেন।

জানা যায়, ইদুল বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন। ওই ঘটনার পাঁচদিন পর মুহম্মদ ইদুল বন্ধু সার্দির সঙ্গে রাতে মাছ ধরতে সমুদ্রে যাওয়ার পরের ঘটনা আন্তরজাতিক একটি গণমাধ্যমকে জানান। সাক্ষাৎকারে ইদুল বলেন, সার্দির নৌকা আগে রওনা করে, তারপর আরেকটি নৌকায় যাই আমি। সৈকত থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে যাওয়ার পর সার্দি নৌকার ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে দেয়। সে সময় হঠাৎ একটি নীডলফিশ পানি থেকে লাফিয়ে উঠে আমার ঘাড়ে তার সুঁচালো ঠোঁট ঢুকিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার পানিতে পড়ে যাই আমি। মাছটি তখনও তার ঘাড়ে আটকে রয়েছে। মাছের সরু, লম্বা ও তীক্ষ্ণ মুখাগ্র তার চোয়ালের নিচের দিক দিয়ে ঢুকে মাথার পেছনের ভাগ দিয়ে বের হয়ে ছিল তখন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, মাছটি সে অবস্থাতেও পানির মধ্যে পালানোর জন্য ছটফট করছিল এবং ইদুল তার ঘাড়ের ভেতর অনুভব করতে পারছিলেন মাছের ছটফটানি।

ওই কিশোর জানায়, এ সময় সে মাছটি শক্ত করে ধরে রাখেন এবং বন্ধু সার্দির কাছে সাহায্য চান। সার্দি আমাকে বলে মাছটিকে যেন ঘাড় থেকে বের না করার চেষ্টা করি, তাহলে রক্তপাত বেড়ে যাবে। ইদুল ও তার বন্ধু সার্দি দুইজনই তখন সাঁতরে তীরে চলে আসেন। পুরোটা সময় মুহম্মদ ইদুল প্রায় আড়াই ফিট লম্বা মাছটি হাত দিয়ে ধরে রাখেন যেন সেটি বেশি নাড়াচাড়া করতে না পারে। এরপর ইদুলের বাবা সাহারউদ্দিন দ্রুত বাউ-বাউ’এর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান ছেলেকে। হাসপাতালে যেতে তাদের গ্রাম দক্ষিণ বুটন থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগে। কিন্তু ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাছটি কাটতে পারলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় মুহম্মদ ইদুলের ঘাড় থেকে মাছের ঠোঁট বের করতে পারেনি। যার ফলে ঠোঁটটি আটকে ছিল মুহম্মদ ইদুলের ঘাড়েই। ঘাড় থেকে মাছের ঠোঁটটি বের করতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের কেন্দ্রীয় হাসপাতালে।

ওয়াহিদিন সুদিরোহুসোদো হাসপাতালের কর্মীরাও এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। ওই হাসপাতালের পরিচালক খালিদ সালেহ জানান, এ ধরণের ঘটনা এই প্রথমবারের মত দেখেছেন তারা। মাছের ঠোঁটটি ইদুলের ঘাড় থেকে বের করতে পাঁচজন বিশেষজ্ঞের এক ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রপচার করতে হয়েছে। ঘটনার পাঁচদিন পর মুহম্মদ ইদুলের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয় তখন তিনি যথেষ্ট সুস্থ। তার ঘাড়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তিনি তখনও ঘাড় পুরোপুরি ঘোরাতে পারছেন না, তবে তার মুখে হাসি লেগে ছিলো তখন। খালিদ সালেহ আরও জানান, ইদুলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাকে কয়েকদিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সে এখনই তার গ্রামে ফিরে যেতে পারবে না, কারণ তার আরো বেশকিছু পরীক্ষা করতে হবে। ইদুল বলেন, পরেরবার থেকে আমার আরেকটু সতর্ক থাকতে হবে। নীডলফিশ আলো সহ্য করতে পারে না। তাই আলো জালার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি লাফিয়ে পানির ওপর উঠে আসে বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।