তিন বছরে ঢাকার বায়ু বেশি খারাপ হয়েছে

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:১৬:৫৮

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০০২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বায়ুমানের ডাটা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ এই তিন বছর বায়ুমান বেশি খারাপ হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটি ঘটেছে। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরো জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও শিল্পঘন শহরগুলোতে সার্বক্ষণিত বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে বায়ুর গুণগত মান পরিমাপ করা হচ্ছে। অন্যান্য দূষক যেমন: সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইড ইত্যাদি সারাবছর মানমাত্রার মধ্যে থাকে। বায়ু দূষণের উৎস হিসাবে ইটভাটা, যানবাহন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম, পৌরবর্জ্য ও বায়োমাস পোড়ানো এবং ট্রান্সবাউন্ডারি প্রভাবকে দায়ী করা হয়।

মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন জানান, আইনের আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তর দেশে বিদ্যমান ইটভাটাসমূহকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে অভিযান পরিচালনা করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৬শ’ অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, মাটি ব্যবহার করে পোড়ানো ইট উৎপাদন ও ব্যবহার শূন্যতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মধ্যে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পরবর্তীতে সকল বেসরকারি কাজে ইটের বিকল্প ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মাটি ব্যবহার করে পোড়ানো ইট উৎপাদনও ব্যবহার শূন্যে নেমে আসবে।

সংসদ সদস্য শাহে আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন জানান, পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বন্ধে সরকার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে পলিথিন জব্দ, জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের বাজার কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা পলিথিন ব্যবহারে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে মর্মে উল্লেখ করে পলিথিনের বিকল্প বাজারে সরবরাহের দাবি জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পলিথিন ‘সোনালী ব্যাগ’ আবিস্কার করেছেন। প্রচলিত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে বায়োডিগ্রেডেবল পলিথিন বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহৃত পলিথিন রিসাইক্লিং-এর মাধ্যমে পূর্ণ ব্যবহার করার উদ্যোগটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।