যুবলীগ সভাপতিকে পেটালেন ওসি

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫:৩৪:২৫

নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বোনের প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনকে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতাবস্থায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঘটনার পর দফায় দফায় বৈঠকের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরা সমঝোতা করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত ইমরান হোসেন উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড (হরিপুর গ্রাম) যুবলীগের সভাপতি। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিয়ামতপুর থানায় ওসির কক্ষে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ওসির এমন কর্মকাণ্ডে উপজেলায় চলছে নানা গুঞ্জন। সচেতনাদের প্রশ্ন ওসি কেন অভিযোগ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন। ওসি যদি এমন কর্মকাণ্ড করেন তা হলে সাধারণরা নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেনের চাচাতো বোন মোবাইল ফোনে মাধ্যমে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই যুবক হরিপুর গ্রামে রোববার দুপুরে দেখা করতে যান। যুবকের সঙ্গে মেয়েকে কথা বলতে দেখে এ নিয়ে ইমরান হোসেনের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। ইমরান হোসেনের পরিবারের একপক্ষ ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে চায়। কিন্তু ইমরান অভিযোগ না দিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান। অন্যদিকে ওসি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। এ নিয়ে ইমরান হোসেন বাধা দেন। এতে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় ওসির কক্ষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইমরান হোসেনকে চড়থাপ্পড় ও কিলঘুষি দিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে ইমরান হোসেন সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। ঘটনার পর দফায় দফায় বৈঠকের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরার মধ্যস্থতায় রাত ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ইমরানের হাত ধরে ওসিকে সমঝোতা করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ইমরানের চাচাতো বোনের সঙ্গে গ্রামের এক ছেলে দেখা করতে আসে। এ নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ের পরিবারে দ্বন্দ্ব হয়। পরে অভিযোগ করার জন্য উভয়পক্ষ থানায় যায়। নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রণব কুমার সাহা বলেন, ইমরান বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হাসপাতালে আসে। তার অভিযোগ ছিল- হাসপাতালে আসার প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তিনি আসার পর তেমন কোনো গুরুতর আঘাত আমরা পাইনি।

তবে তিনি বলছিলেন যে, ঘাড়ে ও কানে আঘাত পেয়েছেন। এর পর তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি কানে ব্যথা পেয়েছেন। আমরা ইমরানকে চিকিৎসা দিয়েছি; এখন অনেকটা সুস্থ। নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জয়া মারিয়া পেরেরা বলেন, বিষয়টি তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ না। সাধারণ একটি বিষয়টি। উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।