পিপিই’র অভাবে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা

২৬ মার্চ ২০২০, ৩:৫৪:১৬

করোনা আতঙ্কে কমেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী সংখ্যা। ১২শ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫ শ থেকে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। বর্তমানে ভর্তিকৃত রোগী আছে ৭৭৮  জনের মত। এ ছাড়াও বর্হিবিভাগে হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। করোনা আতঙ্কে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না থাকার কারণে চিকিৎসা দিতে পারছে না রোগীদের। এ কারণেই রোগী কমে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

এ দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড–১৯) এর ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সাধারণ কাপড়ের গাউন, একটি মাস্ক আর একজোড়া গ্লাভস পড়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং টিকিট কাউন্টারে কর্তব্যরত অবস্থায় কাউকেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়নি। ভেতরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। জরুরি বিভাগে দায়িত্বপালনরত দুজন চিকিৎসক বলেন, যতটুকু সম্ভব দুরত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। যে গাউন পড়ে তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিকে কোন অবস্থাতেই পিপিই বলা যাবে না।

বহিঃর্বিভাগে পুরুষ এবং মহিলা কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মচারীরাও কোনো ধরনের পিপিই পরিহিত ছিলেন না। তাছাড়া তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্রেও একই চিত্র। সাধারণ একটি মাস্ক পড়েই রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় ২৪ বিছানার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ভর্তি থাকতো। করোনা ভাইরাসের আতংকে গত এক সপ্তাহ থেকে রোগী কমতে কমতে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আতংকের কারণে রোগীরা নিজেরাই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের একাধিক সিকিউরিটি গার্ড গার্ড বলছেন আগে রোগীর স্বজন ও দর্শনার্থীদের কোন ভাবেই সামাল দেয়া যেতোনা। করোনা ভাইরাসের কারণে হাসপাতালে দর্শনার্থী আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, করোনা আতঙ্কের জন্য হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। তাছাড়া ডাক্তার নার্সদের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে চিকিৎসা দিতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাত্র ১২০ পিস পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। যা খুবই অপ্রতুল। এগুলো আবার একবার ব্যবহারযোগ্য। তাই গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সেগুলো বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আরও ২ হাজার পিপিই’র জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যেতে বলছে, দেখা যাক কত গুলো দেয়। চাহিদা অনুযায়ী আপনাদের কত গুলো পিপিই দরকার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চাহিদা তো অনেক তবে, সেটা রোগীর উপর নির্ভর করবে।

করোনা সনাক্তকরণ মেশিন বা কিট আপনাদের এখানে সর্বরাহ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন। প্রয়োজন হলে করোনা সনাক্ত করন মেশিন বা কিট সর্বরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।