কিশোরগঞ্জে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, নতুন ২২ জনের শনাক্ত

১ জুন ২০২০, ৯:৩৯:০৭

কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই মধ্যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে চীনের প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। সর্বশেষ সোমবার (১ জুন) বিকালে পাওয়া নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে নতুন করে আরো ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার ভৈরবে কোভিড-১৯ পজেটিভ এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গত বুধবার (২৭ মে) জেলায় সংগৃহীত মোট ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) এ পাঠানো হয়েছিল। সোমবার (১ জুন) বিকালে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১৪৬ জনের নমুনার মধ্যে নতুন করে ২২ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩৫৩ জন। সোমবার (১ জুন) নতুন করে আরো ২২ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ জনে। এদিকে নতুন করে জেলায় ৩ জন করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন। এর আগে জেলায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ছিল ১৯৮ জন। ফলে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ জন।

বর্তমানে জেলায় মোট ১৬৭ জন করোনা রোগী এবং ৪ জন সাসপেক্টটেড বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। এর মধ্যে অন্য জেলায় শনাক্তকৃত ৪ জন করোনা পজেটিভ রয়েছেন। সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে বুধবার (২৭ মে) সংগৃহীত ১৪৬ জনের নমুনার মধ্যে ১২১ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এছাড়া ২৫ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের দ্বিতীয় নমুনা কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। এই তিনজনের মধ্যে করিমগঞ্জের পজেটিভ একজন মৃত ব্যক্তির দ্বিতীয় নমুনা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া এই ২২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১ জন, করিমগঞ্জ উপজেলার ৩জন, তাড়াইল উপজেলার ৪ জন, কুলিয়ারচর উপজেলার ২ জন, বাজিতপুর উপজেলার ১জন ও ভৈরব উপজেলার ১১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভৈরবে সংগৃহীত নমুনায় পজেটিভ শনাক্তকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার স্থায়ী নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরায়। ফলে সোমবার (১ জুন) পর্যন্ত পাওয়া নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৩৭৫ জনের করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

উপজেলাওয়ারী হিসাবে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৪২ জন, হোসেনপুর উপজেলার ১৩ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ২৮ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৪১ জন, পাকুন্দিয়ায় উপজেলায় ১৬ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১৯ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১৪ জন, ভৈরব উপজেলায় ১২৮ জন, নিকলী উপজেলায় ৫ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২৯ জন, ইটনা উপজেলায় ১২ জন, মিঠামইন উপজেলায় ২৫ জন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন মৃত ব্যক্তি রয়েছেন। সর্বশেষ করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ভৈরবের বাসায় নরসিংদী জেলার রায়পুরার হাজী শিশু মিয়া (৭৫) মারা যান। গত ২৬ মে সংগৃহীত নমুনায় তার কোভিড-১৯ পজেটিভ আসে।

এর আগে মারা যাওয়া ১০ জন হলো, করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়া (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার টেনু সাহার গলি এলাকার নিতাই (৬০), হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু মিজান, কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের মাতুয়ারকান্দা গ্রামের মোস্তফা মিয়া (৬০), কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামের তরুণ ভূইয়া (৪০), বাজিতপুর পৌরসভার চারবাড়িয়া এলাকার মো. আল আমিন মিয়া (৬০), ভৈরব পৌরশহরের চণ্ডিবের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী অমিয় দাস (৬০), মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া মীরহাটির রফিকুল ইসলাম (২৭), করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের টামনী ইসলামপুর গ্রামের সামছুদ্দিন (৬৫) এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের অষ্টবর্গ গ্রামের তারা মিয়া (৪৫)।

এছাড়া গত ২৪ মে ভোরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে শনাক্তকৃত ২২ মাস বয়সী কোভিড-১৯ পজেটিভ শিশু কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে গত ১৯ মে সংগৃহীত তার দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সে অন্যান্য জন্মগত ত্রুটিতে ভুগছিল।

এর আগে গত ২১ মে বিকালে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা হুমায়ুন সিদ্দিকী (৫৫) নামে এক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর ওইদিনই (২১ মে) পাওয়া তার দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।