‘ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি বাড়তে পারে’

১৪ জুলাই ২০২০, ৪:৫৫:২০

আধপেটা খেতে পায়, ক্ষুধা পেটে রাতে ঘুমাতে যায় —গত বছর বিশ্বে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ। কোভিড-১৯–এর জেরে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সংখ্যাটা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। অর্থাৎ করোনাকালীন এই সময়ে ক্ষুধার্ত মানুষের তালিকায় যোগ হতে পারে আরও ১৩ কোটি মানুষ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের ৫টি এজেন্সির সম্মিলিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০৩০ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ যুক্ত হলো। বিশ্বব্যাপী দিনদিনই বাড়ছে ধনী দরিদ্র মানুষের বৈষম্য। প্রতিবছরই বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। ২০১৯ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ছিলো প্রায় ৬৯ কোটি। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ কোটি। ২০১৮ সালের তুলনায় তা প্রায় ১ কোটি বেশি। ৫ বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬ কোটি। ক্ষুধার্ত মানুষের বেশিরভাগই এশিয়া আর আফ্রিকায়। করোনা মহামারীতে ২০২০ সালে তা ভয়াবহভাবে বাড়বে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এমনিতেই ক্ষুধা দারিদ্র্য দূর করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে, করোনা মহামারী অবস্থা আরো ভয়াবহ করে দিয়েছে। কোভিড নাইনটিন মহামারী নিয়ন্ত্রণে যে বিনিয়োগ আছে, তা স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে হবে, মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য। এ লক্ষ্যে আমরা আগামী বছরই ফুড সিস্টেম সামিটের আয়োজন করবো আফ্রিকা আর এশিয়ার শিশুদের জন্য।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ। আফ্রিকায় প্রায় ২৫ কোটি লাতিন আমেরিকা আর ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। ইউনিসেফ বলছে, আফ্রিকা আর দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম নির্বাহী পরিচালক ডেভিড ব্রেসলি বলেন, ‘করোনা মহামারির পাশাপাশি আমাদের ক্ষুধা মহামারির সাথে লড়তে হচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে অভিবাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা। দেরি না করে পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।’

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।