নিউইয়র্কে যেভাবে খুন হন ‘পাঠাও’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম

১৬ জুলাই ২০২০, ১:২৮:৩২

বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাইড শেয়ার অ্যাপ ‘পাঠাও’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহ (৩৩) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ইস্ট ম্যানহাটনের কনডোমিনিয়ামের (অ্যাপার্টমেন্ট) বাসা থেকে পুলিশ তার মাথাবিহীন কয়েক টুকরো দেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের পাশে একটি ইলেকট্রিক করাতও পেয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ধরণ দেখে পুলিশ ধারণা করছে, এটি পরিকল্পিত ও পেশাদার খুনির কাজ। কারণ অ্যাপার্টমেন্টের কোথাও রক্তের চিহ্ন নেই। এমনকি অ্যাপার্টমেন্টর কিছু লুট বা খোয়া যায়নি। তবে পুলিশ এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, একজন নিকটাত্মীয়ের ফোন পেয়ে লোয়ার ইস্ট ম্যানহাটনের সাফক ও ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটের ভবনের অ্যপার্টমেন্ট থেকে ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে। গত বছর ২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারে এই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন ফাহিম সালেহ। পুলিশের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, ভবনের সিসি টিভির ফুটেজে ফাহিম সালেহকে শেষবার সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে দেখা গেছে। ওইসময় তিনি তার বিল্ডিংয়ের লিফটে প্রবেশ করেন এবং তার সপ্তম তলার অ্যাপার্টমেন্টে লিফট থেকে নেমে যান। সন্দেহভাজন খুনিও একটি ব্যাগ হাতে তার সঙ্গেই লিফটের অপেক্ষায় ছিল। ফাহিম অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজন খুনিকে তার ওপর হামলা করতে দেখা যায়।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপডি) মুখপাত্র সার্জেন্ট কার্লোস নুইভস দাবি করেছেন, নিহত ফাহিমের দুই হাটুর নিচের অংশ এবং দেহ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘটনাস্থলে দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাওয়া গেছে। তবে কোথায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকার করেন ওই কর্মকর্তা। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা লাশের আঙুলের ছাপ এবং নানান আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এখনো ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ফাহিমের জন্ম ১৯৮৬ সালে। তার বাবা সালেহ উদ্দিন বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে আর মা নোয়াখালীর। ফাহিম পড়াশোনা করেছেন ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে আমেরিকার বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৫ সালে কয়েক বন্ধু মিলে বাংলাদেশে চালু করেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।