মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ঢাবি ছাত্রদল

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১:৩৮:০২

মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের কার্যক্রম। বর্তমান ৯১ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর থেকেই রয়েছে ক্ষোভ অসন্তোষ। এই কমিটি নিয়ে বিভক্ত দুটি পক্ষ। একটি অংশ সাংগঠনিক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি করেন। আর যাদের কমিটি ভেঙে দিতে বলা হচ্ছে তাদের দাবি, বর্তমান নেতৃত্বে ঢাবি ছাত্রদল সুন্দরভাবে চলছে। কমিটি নিয়ে বিভক্তির মাঝেও একই দাবিতে ডিসেম্বর মাসে দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচিও পালন করেছে।

এই কমিটি নিয়ে একটি পক্ষের অভিযোগ ৯১ সদস্যের এই কমিটিতে শীর্ষ দুই পদসহ ৪৭টি পদ একটি সিন্ডিকেটের। এর কারণে অনেক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নির্যাতিতরা বাদ পড়েছেন। এমনকি বিভিন্ন হলে যে সকল কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানেও একই অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগ ও শিবিরের কর্মীদের হল কমিটিতে রেখে কমিটি ঘোষণার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবেন যোগ্য ও বঞ্চিতরা।

রাকিবুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. আমানউল্লাহ আমানকে সদস্যসচিব করে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৯১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের করা এই কমিটির মেয়াদ ছিল তিন মাস। এই আহ্বায়ক কমিটি ইতোমধ্যে ১ বছর পার করেছে। সংগঠনের একাংশ এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার পক্ষে।

অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পদ পাওয়ার কারণে এই কমিটি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় শাখার কর্মী ও নেতৃবৃন্দের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র বলছে, ঢাবির শীর্ষ দুই পদসহ ৪৭টি পদ একটি সিন্ডিকেটের। এই সিন্ডিকেট প্রভাবশালী হওয়াতেই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন ঢাবির শীর্ষ নেতারা। এজন্য বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ করে থাকেন।

এই কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, তিন মাসের জন্য কমিটি হয়েছিল, কিন্তু ইতোমধ্যে এক বছর পার করেছে। গত এক বছরে রাকিব ও আমান সংগঠন কোনো সাধারণ সভাও করতে পারেন নি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে গেছেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ড অবশ্যই সংগঠনের শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আমরা অযোগ্য ও অথর্ব এ কমিটি ভেঙে দিয়ে সংগঠনের সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি চাই। এর মাধ্যমেই সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান বলেন, এরকম কোন ন্যূনতম সত্যতা এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এখানে যদি ত্যাগী নেতারা বাদ পড়ে ছাত্রলীগ-শিবির এই কমিটিতে ঢুকতো তাহলে যখন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তখনই এ নিয়ে আলোচনা হতো। আর বিভিন্ন সময় মুখস্থ কথা বললেই তো হবে না। এখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন এমন কোন ঘটনা ঘটলে তারা দেখতো জানতো। এগুলো ঢালাও কথা। এমন অভিযোগ যদি কেউ করে থাকে তাহলে সেটা উদ্দেশ্য মূলক ভাবেই করেছে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।