হোয়াইট হাউস ছাড়লেন ট্রাম্প

২০ জানুয়ারি ২০২১, ৮:১৯:২৭

হোয়াইট হাউস ছাড়লেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে পাকাপোক্তভাবে বিদায় নিয়েছেন তিনি। বিদায়ের আগে তিনি চেয়েছিলেন জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিদায় নিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। তাই কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিশেষ হেলিকপ্টারে হোয়াইট হাউস ছাড়েন ট্রাম্প। এর আগেই নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা যা করতে এসেছিলাম তা করেছি। আমি কঠিন লড়াই, সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছিলাম।’

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হলেও এখনও সেই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নেননি ট্রাম্প।

‘সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে’ এরইমধ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দুইবার অভিশংসিত হয়েছেন। প্রথমবার অভিশংসন থেকে সিনেটে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার যদি তিনি সেনেটে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তিনি আর কখনও কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

করোনাভাইরাসে চার লাখ আমেরিকানের মৃত্যু আর দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হলেও সেসব ছাড়িয়ে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের ওই ভয়াবহ তাণ্ডব। তবে বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।’ যখন তিনি প্রেসিডেন্টের দফতর ছাড়ছেন, তখন তার জনসমর্থনের হার ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বিদায়ী কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য জনসমর্থনের এ হার সর্বনিম্ন; যা একটি রেকর্ড।

এদিকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল বাইডেন মঙ্গলবার তাদের ডেলাওয়ারের বাসভবন ছেড়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। ২০০৮ সালে বারাক ওবামার ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে ৩৬ বছর ধরে সিনেটর থাকার সময় এখানেই থাকতেন জো বাইডেন। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘যখন আমি মারা যাবো, ডেলাওয়ারের কথা আমার হৃদয়ে লেখা থাকবে।’

বুধবার তিনি হোয়াইট হাউজে যাবেন। বাংলাদেশ সময় রাতের বেলায় ক্যাপিটল ভবনের সামনের চত্বরে তার অভিষেক অনুষ্ঠান হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে আর কোনও অভিষেক অনুষ্ঠান এমনভাবে হয়নি। পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবের পর পুরো ওয়াশিংটন কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং হোয়াইট হাউজের চারদিকে ধাতব বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে, সেখানে বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেখার জন্য গুটিকয়েক মানুষকে ক্যাপিটলের সামনের ন্যাশনাল মলে যেতে দেয়া হবে। এমনকি এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন না বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ১৮৬৯ সালে সর্বশেষ অ্যান্ড্রু জনসনের পর এই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। বুধবারই ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ফ্লোরিডায় তার অবকাশ যাপন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।