করোনা নিয়ে যে বার্তা দিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

১৭ জুন ২০২১, ১:১৪:৫৯

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ল। ১৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে বুধবার (১৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, অপ্রয়োজনে বাইরে আসবেন না। কারণ, আমরা আবারও দেখছি যে, সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। এই সংক্রমণ কমাতে গেলে আমাদের সকলকে আন্তরিকভাবে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদেরকে বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে হবে। বাজার এবং যেসব জায়গায় জনসমাগম বেশি ঘটে, সেই জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি। বুধবার (১৬ জুন) এক ভিডিও বার্তায় দেশের মানুষের উদ্দেশে এই আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা আগামী ১৫ জুলাই অর্থাৎ এক মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই প্রজ্ঞাপনের মধ্যে উল্লেখ্য যে বিষয়টি রয়েছে, তা হচ্ছে আমাদের যেখানে সংক্রমণ বেশি সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, কারগরি কমিটি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তারা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবেন। আমরা এই কার্যক্রমটা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যেখানে অতি সংক্রমণ হয়েছে সেখানে কঠোর বিধিনিষেধের মাধ্যমে আমরা সে কার্যক্রমগুলো করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে যে, আমাদের সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। অর্ধেক আসন খালি রেখে ক্রেতাদের বসাতে পারবে। খাবারের দোকানগুলো সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খাবার সরবরাহ করতে পারবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অর্থাৎ জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান পরিহার করতে বলা হয়েছে। আমাদের পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা এই প্রজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছি সংক্রমণ কমানোর জন্য। মানুষ যেন সতর্কভাবে, সচেতনভাবে চলাফেরা করেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

এর আগে গত ৬ জুন বিধিনিষেধের মেয়াদ ১০ দিন বাড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সে হিসেবে বুধবার (১৬ জুন) রাতে শেষ হবে এই বিধিনিষেধ। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় এবং ভারতের ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়ায় এই বিধিনিধেষ বাড়ানো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার।

চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো আসন সংখ্যার অর্ধেক বসিয়ে খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়।

এ ছাড়া বিধিনিষেধে আগে থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া ছিল। এ ছাড়া জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি অফিস সীমিত পরিসরে চলছে। আর সীমিত পরিসরে হচ্ছে ব্যাংকের লেনদেন।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।