আজ থেকে শুরু ফাইজারের টিকা প্রয়োগ

২১ জুন ২০২১, ১০:১৬:৪১

কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে আজ রাজধানীতে। ‘ফাস্ট রান’ হিসাবে প্রথম দিন নিবন্ধিত ১২০ জন করে তিনটি হাসপাতালে ৩৬০ জনকে এ টিকা দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া রোববার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (এমএনসিএন্ডএইচ) ডা. শামসুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে ডা. শামসুল হক বলেন, সোমবার ( ২১ জুন) থেকে তিনটি হাসপাতালের নিবন্ধিত ১২০ জন করে ৩৬০ জনকে এ টিকা দেওয়া হবে। এটি হবে টিকার ‘ফাস্ট রান’। টিকা গ্রহীতাদের কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যদি কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়, তাহলে এরপর থেকে নিয়মিত টিকাদান শুরু করা হবে। এমনকি ফাইজারের টিকাদান কেন্দ্র বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, ৩১ মে ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত আধুনিক ‘এমআরএনএ’ প্রযুক্তির এক লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এটি অতিমাত্রার তাপমাত্রা সংবেদনশীল একটি টিকা।

যেসব কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে সেগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করতে না পারায় গত এপ্রিলে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া স্থগিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর চীনের পক্ষ থেকে সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ টিকা দেশে এলে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয় ২৫ মে থেকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২১ জুন থেকে শুরু হবে কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে পাওয়া এক লাখ টিকার প্রয়োগ।

১৮ বছরের ওপরের সবাইকে পর্যায়ক্রমে করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্য সামনে রেখে সরকার গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। কিন্তু টিকার স্বল্পতার কারণে ২৬ এপ্রিল সরকার প্রথম ডোজ টিকাদান বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর সপ্তাহখানেক পর একই কারণে সারাদেশের সবগুলো কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহে ব্যর্থ হলে, বালাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রভাব পড়ে। চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল।জানুয়ারিতে সেরাম প্রথম দফায় ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করে। যার মধ্যে ওই মাসে মাত্র ২০ লাখ ডোজের একটি চালান ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর সেরাম থেকে বাংলাদেশে টিকার আর কোনো চালান আসেনি। উপায় না পেয়ে সরকার অন্য দেশ থেকে টিকা কেনার চিন্তাভাবনা করেন।

গত ১২ মে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেয় বাংলাদেশ। এরপর উপহারের এই টিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেওয়া শুরু করা হয়। এরপর গত ১৩ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি উড়োজাহাজ চীন থেকে আরও ছয় লাখ ডোজ সিনোফার্মার টিকা নিয়ে দেশে আনে। গতকাল থেকে এই টিকাও দেওয়া শুরু হয়।

এছাড়া গত ৩১ মে বাংলাদেশে এক লাখ ছয় হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা পৌঁছায়। ঢাকার বাইরে এই টিকা নেয়ার সুবিধা পাওয়া সম্ভব না হওয়ায় ঢাকার তিনটি টিকাকেন্দ্রে এগুলো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আজ থেকে টিকাগুলোর প্রয়োগ শুরু হবে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।