মৃত্যুর আগে যদি একটি চিঠি পেতাম: সোহেল রানা

২৬ মার্চ ২০২২, ৮:১৯:১৭

ঢাকাই সিনেমার ড্যাশিং হিরো খ্যাত অভিনেতা সোহেল রানা। যিনি নিজের অভিনয়ে মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাহিরে পরিচিতি লাভ করেছেন। ১৯৭৩ সালে সোহেল রানা নাম ধারণ করে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত চরিত্র মাসুদ রানার মাধ্যমে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবেও জায়গা করে নেন ঢালিউডে। অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার অভিনতো তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান সোহেল রানা।

এই খ্যাতিমান অভিনেতার সাথে কথা হয় বিডি২৪লাইভ ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগের। আলাপরাচিতায় উঠে আসে সোনালী দিনের বাংলা সিনেমার কথা। তুলে ধরেন বর্তমান সময়ের সিনেমার কথাও। বলেছেন ড্যাশিং হিরো খ্যাতি পাবার গল্প।

আজ স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’ নিয়ে কিছু বলুন। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমি কি পেলাম? স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’ ছবির প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছি। সিনেমাটি পরিচালনা করেন বরেণ্য প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। আমার একটাই আফসোস আমি এই সিনেমার জন্য আজও একটি চিঠিও পেলাম না। অথচ প্রতি বছর শত শত পুরস্কার দেয়া হচ্ছে চলচ্চিত্রকে ঘিরে। আমি বহুবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছি। অনেক বক্তব্যে বলেছি এই সিনেমাটি নিয়ে। কোন লাভ হয়নি। মৃত্যুর আগে যদি একটি চিঠি পেতাম।”

বিডি২৪লাইভ: বর্তমান সিনেমা নিয়ে আপনার কি বলার আছে?

সোহেল রানা: বর্তমানে সিনেমা তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল, আর দেশের হলগুলো হচ্ছে এনালগ। তাহলে সিমেনা হলে দর্শক দেখবে কি। আমি অনেক আগেই বলেছি, বাংলা চলচ্চিত্র মরে গেছে। সেই সোনালী দিন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব না। তাই আমি বলবো এখনকার সময়ের সিনেমার সাথে আগের সিনেমার তুলনা করলে চলবে না।

বিডি২৪লাইভ: সোনালী দিনের বাংলা সিনেমা নিয়ে কিছু বলুন।

সোহেল রানা: ১৯৮০-৯০ সালে তো মোবাইলে সিনেমা দেখা যেতে না, তখন সিনেমা দেখতে হলে যেতে হত দর্শককে। বর্তমানে হাতের মুঠোয় সব কিছু পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ তাহলে সিনেমা হলে কেন যাবে। ভবিৎষতে সিনেমা থাকবে, হলে দর্শক যাবে না। সেই সময় ইউটিউব ছিল না, ফেসবুক ছিল না। এখন তো ভাই তার বোনকে নিয়ে সিনেমা হলে যেতে পারে না। আশে পাশের লোকজন এখন আর ভদ্র নাই। আগে বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে হলে যাওয়া যেতে এখন সেই পরিবেশ নাই।

বিডি২৪লাইভ: ড্যাশিং হিরো নামটা কিভাবে পেলেন?

সোহেল রানা: সেই সময়ের সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার আহমদ জামান চৌধুরী আমাকে যখন ড্যাশিং হিরো নামটা প্রশংসা করে দেন তখন বাংলা সিনেমার কাউকে কোন নামে ডাকা হতো না। আমার নাম দেয়ার পর রাজ্জাক সাহেবকে তিনি নায়ক রাজ হিসেবে পরিচিতি দিলেন। এরপর নায়ক ওয়াসিমকে বাহাদূর বলে ডাকা হতো। হাতে গোনা কয়েক জনের পর, নিজের নামের আগে ইচ্ছে মত নাম বসিয়ে প্রচার করতে শুরু করলো অনেকে। প্রকৃত অর্থে তো আমাকে দিয়ে প্রশংসা সূচক শুরু হয়।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।