প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বাবা-মায়ের খোঁজে ৪২ বছর পরে জার্মানি থেকে বাংলাদেশে সেলিনা

   
প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, ১০ অক্টোবর ২০১৯

দারিদ্র্যের কারণে জন্মের মাত্র পাঁচদিন পর সেলিনাকে গ্রামের রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান তার বাবা-মা। সেখান থেকে কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে একটি এতিমখানায় দেয়ার উদ্যেগ নেয়। সেসময় জন ম্যাকডোনাল্ড নামে একজন এনজিওকর্মী বাংলাদেশে কাজ করতেন, তিনি সেলিনাকে নিয়ে যেতে চাইলে গ্রামবাসী তার হাতে সেলিনাকে তুলে দেন। পরে ম্যাকডোনাল্ড সেলিনাকে জার্মানি নিয়ে গেলে সেখানেই বড় হয় সেলিনা। এরই মধ্যে কেটে যায় ৪২টি বছর তবে ছয় বছর বয়সের সময়ই সেলিনা জানতে পেরেছিলেন যে ম্যাকডোনাল্ড তার পালিত বাবা। গতকাল বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এসে সেলিনা জানান, তার পালক বাবা জন ম্যাকডোনাল্ড ১৯৭৬ সালের জুন বা জুলাই মাসে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে দত্তক নেন। ম্যাকডোনাল্ড তখন একটি বেসরকারি শিশু সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতেন। বাংলাদেশে কাজ শেষে তিনি তাকে জার্মানি নিয়ে যান এবং পরে একটি স্কুলে ভর্তি করান। সেলিনার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি জানতে পারেন যে, তাকে বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়েছে এবং ম্যাকডোনাল্ড তার পালক বাবা। সেলিনা জার্মানিতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং স্টেফান নামে এক জার্মান নাগরিককে বিয়ে করেন। তাদের অ্যাঞ্জেলা (২২) নামে একটি মেয়ে ও ফিন (১৫) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

সেলিনা গত ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহে আসেন এবং দেলোয়ারের সহায়তায় জামালপুরের গাইতিপাড়া গ্রামে যান। দেলোয়ার জানান, গত মঙ্গলবার সরিষাবাড়ীতে প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সেলিনার জন্মস্থান গাইতিপাড়া গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সেলিনার ছোটবেলার ছবি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন পরিচয় দিয়েও তার বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেলিনা বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আবেগজড়িত কণ্ঠে তার বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। কিন্তু তার বাবা-মায়ের খোঁজ কেউ দিতে পারেনি। তিনি আরও দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন বলে জানান।

এসএআর/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: