প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হাবিবুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কন্যা শিশুকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল, মাতব্বর গ্রাম ছাড়া

   
প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ণ, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: প্রতীকী

কুমিল্লার মুরাদনগরে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করেছে স্থানীয় এক মাতব্বর। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউপির বাখরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষক ছিদ্দিকুর রহমান (৬৫) এবং ধর্ষিতা(১১) ওই গ্রামের বাসিন্দা। গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় মাতব্বরগণ তা ধামাচাপা দিয়ে রাখে। বুধবার ওই শিশুকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃস্টি হয়েছে। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ মাতব্বররা ধর্ষক ছিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভাগবাটোয়া করেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই টাকা থেকে ধর্ষিতার পরিবারকে দেয়া হয়নি এক টাকাও।

স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউপির বাখরাবাদ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়াকে (১১) নানা ছলে-কৌশলে এবং বিশ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় গ্রামের মাতব্বর ছিদ্দিকুর রহমান। সেখানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। তবে কে বা কাহারা ঘটনাটি দেখে অজ্ঞাতস্থান থেকে ধর্ষনের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এ ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষকের কাছ থেকে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের যোগশাজসে গ্রামের মাতব্বরগণ ধর্ষক ছিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষণের এ ভিডিও বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে এ ভিডিও দেখে ধর্ষক ছিদ্দিকুর রহমান গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মিজানুর রহমান এবং এসআই নুরুল আলম ওই গ্রামে গিয়ে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় এনে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে। পরে ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

ধর্ষিতার ভাই জানান, ঘটনার পর মাতব্বরগণ আমাদেরকে কিছু টাকা দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করিনি। আমরা ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিস্ট কোন অভিযোগ কিংবা তথ্য প্রমাণ পাইনি, মাতব্বরগণ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু খবর পেয়ে অভিযোগ ছাড়াই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় এনে অভিযোগ গ্রহণ করেছি। ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, কোন মাতব্বর এর সাথে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, লম্পট ধর্ষক ছিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: