আঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ভোলাগামী এমভি আলওয়ালিদ-৪ লঞ্চ থেকে নিখোঁজ হয়েছেন উত্তরা আজিমপুর ভাই ভাই মার্কেটের ফাস্ট ফুড দোকানি মো. শামিম (৩১)। ২৭ দিনেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঈদ উপলক্ষে তিনি ৫ জুন রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন রহস্যজনক নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশ মরিয়া। বুধবার পর্যন্ত ২৭ দিনেও তারা ব্যবসায়ী শামিমের নিখোঁজের কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। পরিবারের উপর্জনক্ষম ব্যক্তির এমন নিখোঁজ হওয়ায় খুঁজে বেড়ানোর পাশপাশি হতাশায় ও নির্ঘুম দিন কাটছে দুই মেয়ে নিয়ে স্ত্রী ইসমত আরা তারার, বাবা আব্দুল মান্নান ও মা রাবেয়া বেগমসহ স্বজনদের।
বুধবার ওই লঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তল্লাশিতে দেখা যায়, রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি নিচ থেকে ছাদে যাচ্ছেন। রাত ১২টা ২৬ মিনিটের দিকে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
ভোলা মডেল থানার ওসি আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ জানান, জিডি গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। লঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আনা হয়েছে। কোথা থেকে নিখোঁজ হন তার সন্ধান করা হচ্ছে। তবে তিনি তার মোবাইল ফোন আগেই ফেলে আসেন। ট্র্যাক করে ওই মোবাইল ফোনের সন্ধান মিললেও মেলেনি ব্যবসায়ী শামিমের সন্ধান।
এদিকে শামিমের শ্যালক সোহেল জানান, লঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শামিমকে লঞ্চে অবস্থান করতে দেখা যায়। লঞ্চ ঢাকা ছাড়ার পর চাঁদপুর অতিক্রমের সময় সর্বশেষ স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে তার কোনো আর সন্ধান মেলেনি।
স্ত্রী তারা বেগম জানান, ঢাকার সদরঘাট থেকে চরফ্যাশন বেতুয়াগামী এমভি আল-আওয়ালিদ-৪ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন মো. শামিম। লঞ্চ চাঁদপুর অতিক্রমের সময় রাত ১২টা ২৬ মিনেটে এক যাত্রীর ফোন দিয়ে শামিম জানান লঞ্চে আছেন। তবে বাড়ি না এসে প্রথমে লালমোহন মঙ্গল সিকদার ঘাটে নামবেন। বোনের বাড়িতে যাবেন। তার পর ভোলার জেলা সদরের নবীপুরে নিজ বাড়িতে আসবেন। লঞ্চে কয়েকজন লোক তাকে ফলো করছে, এমনটাও জানান। কারা ফলো করছে, কেন করছে, এর বিস্তারিত কিছু বলেননি। ওই সময়ের পর আর শামিমের খোঁজ মেলেনি। শামিম বোনের বাড়ি যায়নি। পরবর্তীতে ওই লঞ্চের যাত্রী নামার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার চেষ্টা করা হলেও শামিমের সন্ধান মেলেনি।
কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শামিমের বাবা আব্দুল মান্নান ও মা রাবেয়া বেগম। তার দুই ছেলের মধ্যে শামিম বড়। ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। শামিম এক সময় গাজীপুরের সফিপুরে একটি কৃষি ফার্মে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে বিবিএস ক্যাবলে চাকরি করেন ৫ বছর। ২০২১ সালে বিদেশ যাবেন বলে চাকরি ছেড়ে দেন। গত ৪ বছর চলনসই অস্থায়ী চাকরি করেন।
চাচাতো ভাই রুহুল আমিনের সহায়তায় উত্তরা আজমপুর (চালাবন) ভাই ভাই মার্কেটে ফাস্টফুডের দোকান দেন গত ১ মে। এক মাসের মধ্যে ব্যবসাও জমে উঠেছিল। রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। তাই শেষের ৫ দিন দোকানেই ঘুমাতেন। তার নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না পুলিশ।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর