
কয়েক বছর আগেই স্ত্রীদের বাড়িতে রেখে সৌদি আরব যান দুই সহোদর ওহিদুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম। কিন্তু ওই দুই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়িতে থাকার কথা থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় থাকেন বাবার বাড়িতে। মাঝেমধ্যে শ্বশুরবাড়িতে এলেও দুই থেকে তিন দিনের বেশি থাকেন না।
এমনভাবে দুই জা যখন শ্বশুরবাড়িতে আসেন তখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন অন্য আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। সেই সুযোগে রাতে বাড়িতে আসে দুই জায়ের পরকীয়া প্রেমিকরা। যারা আবার দুই বন্ধু! এ সময় দুই জা ও তাদের প্রেমিকরা রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের রুমে চলে যায়।
এভাবেই চলতে থাকে কিছুদিন। এরপর প্রতিবেশীরা টের পেয়ে সুযোগ খোঁজে। শেষ পর্যন্ত পাকরাও করে সেই দুটি পরকীয়া জুটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের পশ্চিম রামজীবন গ্রামে।
গত সোমবার মধ্যরাতে রামজীবন গ্রামে ওই দুই যুবক দুই জায়ের ঘরে ঢুকলে টের পায় প্রতিবেশীরা। পরে কয়েকজন মিলে বাড়ির সদর দরজায় ধাক্কা দেওয়াসহ তাদের ডাকাডাকি করলে প্রথমে দুই জা দরজা খুলতে চান না।পরে দরজা খুললে দুই গৃহবধূর ঘরে যায় স্থানীয়রা। এরপর স্থানীয়রা ওই দুই গৃহবধূ ও তাদের দুই প্রেমিককে আটক করে।
এক স্থানীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, বিদেশের বউ দুজন খালি ঘোরাঘুরি করে। আমি পাশে বসে ছিলাম। কী জন্য ঘুরঘুর করে তা আমি সাইডে বসে দেখছি।
হঠাৎ করে দুইটা ছেলে এদিক থেকে ১০ টার পরে আসে। আমি দেখলাম মেয়ে দুইটা ছেলে দুজনকে ভেতরে ঢুকিয়ে নিল বাড়ির। ঢুকে তারা গেট লাগিয়ে দিল। দুই মিনিট এক মিনিটের ভেতর লাইট অফ করে দিল।
অপর একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। লাইট অফ করার পর আমি জানালার ছিদ্র দিয়ে দেখলাম একটা ছেলে ও একটা মেয়ে। আমি দেওয়ালে কান পেতে দিলাম। ওখানেও ছেলে মেয়ে, দুজনের আওয়াজ পাওয়া যায়। তো বাইরে আমরা তিনজন ছিলাম। আমরা পরিকল্পনা করলাম। আরো দুজনকে ডাক দিলাম। তারপর সেই বাড়িতে ঢুকলাম। আমরা ঢোকা মাত্র তারা গেট খুলছিল না। রুমের ভেতর থেকে ছোট ভাইয়ের বউ চিল্লাচিল্লি লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের গালাগাল করছে। বলছে, ‘আমার রুমে কেউ নাই। আমার। আমার বাড়িতে কেন এসেছেন।’
এরপর স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে একপর্যায়ে বড় বউয়ের ঘরে ঢুকে প্রতিবেশীরা দেখেন এক যুবককে বাক্সের ভেতর কাথা দিয়ে ঢেকে রেখেছে বড় বউ। ওই ছেলেকে ধরার পর ছোট বউয়ের ঘরে ওয়ার্ডরোবের তালা খুলে দেখা যায় সেখানে আরেকজনকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিলে স্থানীয়রা তাদের চারজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। তাদের গলায় জুতার মালা ও দুই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দেয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্চ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘তারা যে অপরাধ করেছে, স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে আটক করে রেখেছে। আমি আমার পক্ষ থেকে নিয়ে আসি। এনে ২৯০-তে আমি চালান দিয়ে দিয়েছি। তারা যে অপরাধ করছে, সেই অপরাধের ভিত্তিতে চালান দিয়ে দিয়েছি।’
রার/সা.এ
সর্বশেষ খবর