
কুমিল্লায় রান্নাঘরে ঢুকে গৃহবধূ শানু বেগম (৫০)-কে গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রতিবেশী মো. দেলোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। রবিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. দেলোয়ার হোসেন কুমিল্লার সদর উপজেলার ১ নম্বর কালীর বাজার ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি দেলোয়ার হোসেন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গোয়ালঘরের জায়গার সীমানা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর ভোরবেলা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের শানু বেগম (৫০) তেলের পিঠা বানানোর সময় প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন রান্নাঘরে প্রবেশ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এরপর বঁটি দা দিয়ে শানু বেগমের গলার কণ্ঠনালী কেটে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শী রেহেনা ও জুবায়েরের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতায় দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। থানাপুলিশকে খবর দেওয়ার পর শানু বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর মৃত শানু বেগমের স্বামী কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাধীন হাতিগাড়া গ্রামের মৃত বসত আলীর ছেলে মো. ফরিদ (৬০) বাদী হয়ে প্রতিবেশী মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৬)-কে একমাত্র আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১৯ মে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিধানমতে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর মামলাটি বিচারে এলে আসামি দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামি মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। সেই সাথে আরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ০৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী বলেন, "আমরা আশা করছি উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, "এ রায়ে আসামিপক্ষ ক্ষুব্ধ। আসামিপক্ষ রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।"
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর