
২০১৯ সাল থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রজনন মৌসুম রক্ষায় ১লা জুন থেকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল ধরনের প্রবেশাধিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বনবিভাগ। এরি ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ তিন মাস বন্ধের পর আজ থেকে প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের দুয়ার।
১লা সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে পূর্বের মত চালু হচ্ছে সুন্দরবন থেকে মাছ, কাঁকড়া, বনজ সম্পদ আহরণসহ চালু হচ্ছে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমন। দীর্ঘদিন সুন্দরবন বন্ধ থাকায় জেলে পরিবার গুলো দিশেহারা। স্বল্প আয়ের মধ্যেও সঞ্চিত অর্থ বা মহাজনের দাদন নিয়ে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা জাল নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে এখন শুধু অপেক্ষা বনবিভাগের অনুমতি।
সুন্দরবন চালু হওয়ায় মধ্যে দিয়ে ২৯৭০জন বিএলসিধারী ও সুন্দরবনের সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে ও বনজীবী পরিবারে। তারা জানাচ্ছেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় গত তিন মাস চরম দুর্ভোগে কাটাতে হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট ৬২ শতাংশ সুন্দরবনের মধ্যে ৩১.১৫ শতাংশ জলভাগ আছে যার আয়তন ১,৮৭৪.১ বর্গকিলোমিটার। আর এই জলভাগে ২১৯ প্রজাতির জলজ,৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী,৮প্রজাতির উভচর,২৮৯ প্রজাতির স্থলজ ও ৩৫ প্রজাতির প্রাণী বসবাস করে। আর জলাশয়, নদী, সাগরে এই প্রজাতির টিকিয়ে রাখতে বছরের পাঁচ মাস বন্ধ থাকে সুন্দরবন।
মুন্সিগঞ্জ জেলেপাড়ার নেপাল জেলে বলেন, সুন্দরবনের নদনদীতে মাছ কাঁকড়া ধরা আমাদের পেশা। এখান থেকে যেটা পাই তাতেই মোটামোটি চলে যায় কিন্তু তিন মাস বন্ধ আমাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তারপরও সরকারের নিয়মকে সাধুবাদ জানাই। বন খুলে দিয়েছে এখন সংসার চালাতে আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না।
বাঘবিধবা বুলিদাশি বলেন, স্বামীকে বাঘের খাওয়া পর জীবন জীবিকার তাগিদে সেই থেকে সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া মারি, যা হয় তাই নিয়ে মোটামোটি চলে যায়। সুন্দরবন খুলেছে এখন আর সমস্যা হবে না। সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত "মা"কে বাঁচাতে সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
সোনারমোড় মৎস্য আড়ৎতের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবিদ হাসান আবেদার বলেন, তিন মাস বন্ধের পর সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য জেলেরা মূখিয়ে আছে অন্যদিকে ওঁত পেতে আছে দস্যুরা। জেলে বাউলিয়াদের নির্বিঘ্নে মৎস্য আহরণের সুযোগ করে দিতে ও হয়রানি বন্ধ করতে বনবিভাগের সহযোগিতার কামনা করেন তিনি।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল হক(ফরেষ্ট রেঞ্জার) বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ ছিল। আগামীকাল থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সাথে জেলেদেরকে নির্দেশনা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ না করতে। অন্যান্য বছরের মতো এবারো সঠিক প্রক্রিয়ায় জেলেদের পাশ(অনুমতি পত্র) প্রদান করা হবে। জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে মৎস্য আহরণ করতে পারে ও জলদস্যুদের নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর