চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতা আজিজুল হক চৌধুরী ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ বালি উত্তোলন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন রিদোয়ান খান নামে এক ভুক্তভোগী। রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সাংবাদ সম্মেলনের তিনি এ অভিযোগ তুলেন।
অভিযুক্তরা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হক চৌধুরী, নুর হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার প্রাকাশ রোকচার (৩৭), শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪০) ওরফে টাকলা শহিদ, জানে আলম নান্ন (৪০) ওরফে ব্যাট্টা নারু, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (৩০) ও মো. আসিফ (২৬)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি সরবরাহ করে আসছে। যার মাধ্যমে চাঁদাবাজির নব্যরূপ চরখাজনা প্রতিষ্ঠা করে। এতে দৈনিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে চরবেতাগীর এলাকায় মানুষের ফসলী জমির ভাঙ্গন শুরু হয়। তখন থেকে আমরা এলাকাবাসী প্রতিবাদ শুরু করি। সম্মুখ সারিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করি। যার পরিণাম স্বরূপ একটি রাজনৈতিক মামলায় মিথ্যা আসামী করে আজিজুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়। পরিনামে ২২ দিন কারাবাস লাভ করে জামিনে মুক্তি লাভ করি।
গত ৩ জানুয়ারি তিনি তাঁর সহধর্মিণী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে বোয়ালখালী থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিলের চেষ্টা করেন। তবে থানা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী মহলের অন্যায় ইন্ধনে এজাহার থেকে চাঁদাবাজির অংশ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে থানার পরামর্শ অনুযায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার বিবরণ সংযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বোয়ালখালী থানায় মামলা নম্বর ৩/২০২৬ হিসেবে রুজু হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত বছরের ২৫ এপ্রিল তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর জলদস্যুদের একটি গোপন আস্তানা থেকে দুটি ভারী মারাত্মক অস্ত্র ও ১৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এছাড়া বালিখেকো আজিজুল হক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে নির্যাতিত অবস্থায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী।
তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি পরিবহন বন্ধ এবং বালিখেকো আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট জলদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর