কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঈশাখাঁ রোডের ব্যবসায়ীদের উপর অবৈধ ফুটপাত দখলদার, সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে সকল ব্যবসায়ীরা শাটডাউন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার, তেরীপট্টি, রথখলা, আঠারবাড়ী কাচারী বাজার এলাকায় দোকান মালিক ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবী, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ না করলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেন। পরে সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঈশাখা রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা প্রশাসক বরাবর ফুটপাতে অবৈধ দোকান অপসারনের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা তাদের পর্নবাসন করার দাবীতে তারাও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। জানাযায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাল থি-পিছ কর্নারের মালিক শুভকর’র সাথে অবৈধ ফুটপাত দখলদার সন্ত্রাসী বাহিনীর বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শুভকর ও আশা বস্ত্রালয়ের আঃ আউয়ালের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার সময় পার্শ¦বর্তী দোকানের ব্যবসায়ীরা শুভকরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করে। এ সময় আঠারবাড়ি কাঁচারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ী দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। এক পর্যায়ে সকল ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে ঈশাখাঁ রোডের ব্যবসায়ীরা মার্কেট শাটডাউন করে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, এটা এখন কিশোরগঞ্জবাসীর সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী সমিতিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, যেন অচিরেই সড়কে ও ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এটাই ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধ।
অন্যদিকে আজ সকালে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় হকাররা মিছিল করেছেন। কয়েকজন হকার বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ করা মানে গরিবের পেটে লাথি দেওয়া। দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলে কোথায় যাব আমরা? আমরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হই—এটাই আমাদের দাবি।’
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদরসার্কেল ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও অবিলম্বে ফুটপাতের অবৈধ দোকান অপসারন করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, মারধরের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দিলে মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ আছে। তাঁরা যেন দোকানপাট দ্রুত খোলেন, সে জন্য আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে এগোচ্ছি।’
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর