রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির দিনে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক কর্মচারীর বিদায় উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সারা দেশে যখন রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছিল, ঠিক সে সময় এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে অবস্থিত জাভেদ পারভেজ মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউট-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মী আ. খালেক শেখ সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেন। তার বিদায় উপলক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিতভাবে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ওই দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালনের নির্দেশনা জারি ছিল। পাশাপাশি দিনটি ছিল সাধারণ ছুটিও। এমন পরিস্থিতিতে শোক পালনের পরিবর্তে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আয়োজকরা সমালোচনার মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. রোকনুজ্জামান বকুল বলেন, “সারা দেশে আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। সেখানে জাভেদ পারভেজ মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউটে কীভাবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল আনোয়ার উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান খসরু বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা বিশ্ব থেকে রাষ্ট্রনেতারা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আমি নিজেও নেত্রীর জানাজায় অংশ নিয়ে এইমাত্র ঢাকা থেকে ফিরেছি। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে আগামীকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাব, যাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল আনোয়ার বলেন, “অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। তাছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “এটা কোনো আনন্দের অনুষ্ঠান নয়, এটি শোকের মধ্যেই পড়ে। আগে থেকেই তারিখ নির্ধারিত ছিল। অন্য সময় করলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ক্ষতি হতো। এতে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়নি।”
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নুর মৌসুমী বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমার জানা ছিল না এবং আমি সংবর্ধনার কোনো অনুমতি দেইনি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর