যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীতে কাঁপছে। শনিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তবুও সাধারণ মানুষ শীতের কারণে জবুথবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
তীব্র শীতের কারণে কৃষকরা ক্ষেতে কাজ করতে পারছেন না। দিনমজুরদের কাজ না থাকায় আর্থিক সংকটে ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। পেটের তাগিদে রিকশা শ্রমিকরা গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে রাস্তায় বের হলেও তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, তীব্র শীতে সাধারণ মানুষ কষ্ট পেলেও সরকার থেকে পর্যাপ্ত কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রিকশাচালক হযরত আলী হোসেন জানান, "শীতে বের হয়েছি। ঘন কুয়াশা এবং শীতের কারণে যাত্রী নেই। হিমেল হাওয়ার কারণে কেউ রিকশায় চড়তে চায় না। জরুরি কাজে যারা বের হচ্ছেন, তাঁরা হেঁটেই যাচ্ছেন।" বয়োবৃদ্ধ আবুল কালাম ও ইব্রাহীম শেখ জানান, "শীতের কারণে কোনো কাজকর্ম নেই। বাইরে বের হলেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। কাজকর্ম না থাকায় আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।"
ট্রাক ড্রাইভার আকতার হোসেন জানান, "মহাসড়ক কুয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, এতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। দিনেই হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।"
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, "এ বছরের সর্বনিম্ন ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।" বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, "আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।"
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত জানান, "ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের কাছে আরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।" সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জানান, "শীতে যতটা সম্ভব ঘর থেকে কম বের হতে হবে। বের হলে শীতের কাপড় পড়তে হবে যাতে শরীর উষ্ণ থাকে। তা না হলে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়তে পারে।"
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর