ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চার রশি এলাকায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেধড়ক মারধর এবং তার পরিবারকে লাঞ্ছিত ও জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সদরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই কালাম মুন্সীর ছোট ছেলে কাউছার আহম্মেদ শাওন (১৪) যে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী বাড়ির পাশের জমিতে খেলতে যায়। এ সময় পূর্ব শত্রুতা ও পরিকল্পিতভাবে তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সোহাগ বেপারী (৪২) ও মিন্টু বেপারীর নির্দেশে মাসুদ (৪০), রিংকু (৩৮) এবং পলি আক্তার (৩৬) সহ কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মক জখম করে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাউছার দৌড়ে প্রতিবেশী আব্দুল্লাহর (২৫) বাড়ির টয়লেটে আশ্রয় নেয়।
খবর পেয়ে কাউছারের মা কহিনূর বেগম প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর সোহাগ বেপারী লোহার রড দিয়ে কহিনূর বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় বাধা দিতে গেলে কহিনূর বেগমের স্বামী কালাম মুন্সী, বড় মেয়ে আয়েশা আক্তার নিপা (১৭) এবং ছোট মেয়ে জুবাইদা আক্তার নিশাকেও (১৩) বেধড়ক মারধর করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় কহিনূর বেগমের গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং নারীদের শ্লীলতাহানি ঘটানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত জুবাইদা আক্তার নিশাকে (১৩) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এই বিষয়ে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, "এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর