ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত শেষরাত থেকে বিমান দিয়ে সিরিজ বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভয়াবহ হামলায় রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুনও ধরে গেছে।
এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। খবর বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগীমাধ্যম সিবিএস নিউজের।
নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। বোগোতায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলার রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণ হওয়ার ব্যাপারে অবগত।
অপর এক নির্দেশনায় নিজ নাগকিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ছাড়া অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা বলেছে। সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার কথাও বলেছে তারা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলা থেকে নিজেদের সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করেছে এবং দেশটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় গতকাল শেষ রাত এবং আজ ভোরবেলায় সিরিজ বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ শুরুর পর থেকেই ফরচুনা ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ইচ্ছা বা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিন চান ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান।
ওইদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কথিত মাদকবাহী নৌযানের সঙ্গে যুক্ত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।
তবে, এটি সামরিক বাহিনী নাকি সিআইএ পরিচালিত অভিযান ছিল—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ট্রাম্প। হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানও তিনি উল্লেখ করেননি; শুধু বলেছেন, এটি ছিল উপকূলীয় এলাকায়।
এবার ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা করে বসল যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার খবরে এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে এটি দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে এই আক্রমণকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নিয়ম, বিশেষ করে সনদের অনুচ্ছেদ ২, অনুচ্ছেদ ৪, যা বল প্রয়োগ নিষিদ্ধ করে, তার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে, যা জাতিসংঘ এবং আইনের শাসন, শান্তি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত রাষ্ট্র কর্তৃক অবিলম্বে এবং স্পষ্টভাবে নিন্দা করা উচিত।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মার্কিন এমন সামরিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন। এই ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে আরও দুর্বল এবং ক্ষয়ক্ষতি করবে।
ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার অন্তর্নিহিত অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর