বগুড়ার শেরপুরে গত বছরের লোকসান ও চলতি মৌসুমের সার সংকটসহ নানা প্রতিকূলতা ছাপিয়ে এবার মাঠজুড়ে আলুর সমারোহ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আলু ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও, আগাম আলু চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা, কেল্লা, আমন, দক্ষিণ আমন, চণ্ডেশ্বর, উত্তর পেঁচুল, আকরামপুর এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের মাখাইলচাপড় ও তালতাসহ গ্রামকে গ্রাম এখন আলুর সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। একরের পর একর জমিতে কৃষকরা সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক স্প্রে ও গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। প্রতিদিন হাজার হাজার পুরুষ শ্রমিক ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতে এসব জমিতে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শেরপুরে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অনেক বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এবং গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা বেশি করে আলু চাষে ঝুঁকেছেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নের মাধাইল চাপড় গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত বছর ১৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই ক্ষতি পুনরুদ্ধারের আশায় আবার আবাদ করেছেন। একই আশার কথা শোনালেন উত্তর পেঁচুল গ্রামের জেল হক, ফরিদ হোসেন ও কেল্লা এলাকার আরিফুর রহমান। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এক একর জমিতে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাজার দর স্বাভাবিক থাকলে সব খরচ বাদে একর প্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ সম্ভব।
মাঠে থাকা আলু নিয়ে কৃষকরা আশাবাদী হলেও, যারা আগাম আলু বাজারজাত করছেন, তাদের চোখেমুখে হতাশা। কৃষক আমজাদ হোসেন ও আলমগীর বলেন, গত বছরের লোকসান কাটাতে ২ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু পাইকারি বাজারে বর্তমানে নতুন আলু মাত্র ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ফলে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি দেখা দিচ্ছে তাদের।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতার বলেন, বর্তমানে কৃষকরা আলুর পরিচর্যায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা বেশ ভালো। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে এবার উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হবে। আমরা আশা করছি, কৃষকরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন এবং লাভবান হবেন। কৃষকের দাবি, সরকার ও বাজার সংশ্লিষ্টরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন, যাতে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি তারা ন্যায্য দাম পান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর