ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন অনেকেই সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবহার করেন। তবে কিছু সময় সিকিউরিটি ক্যামেরাগুলো হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটে। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ সিকিউরিটি ক্যামেরা উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি, অতীতে কিছু ঘটনা ব্যবহারকারীদের মধ্যে চিন্তা তৈরি করেছে। তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় অনুসরণ করা উচিত। ঘরের ক্যামেরার নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর জন্য নীচে ৭টি পরামর্শ দেওয়া হলো, যেগুলো মেনে চললে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অনেকটাই বাড়বে।
১. নকল বা ব্যবহৃত ক্যামেরা কিনবেন না
অতিরিক্ত সস্তা দামে অজানা ব্র্যান্ডের বা নকল ক্যামেরা কিনবেন না। এগুলোর সফটওয়্যার দুর্বল হতে পারে এবং গোপন তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া, অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ব্যবহৃত ক্যামেরা কেনার সময় সতর্ক থাকুন, কারণ ক্যামেরাটি পুরোপুরি রিসেট করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
২. সঠিক ক্যামেরা নির্বাচন
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা সহ ক্যামেরা বেছে নিন। এর মাধ্যমে ক্যামেরার ভিডিও ডেটা কোড আকারে রূপান্তরিত হয়ে নিরাপদে পাঠানো হয়, যার ফলে কেউ যদি মাঝপথে ডেটা ধরে ফেলে তাও ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। অনেক নামকরা ব্র্যান্ড এই সেবা দেয়। ক্যামেরার সেটিংসে গিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন এই ফিচারটি চালু রয়েছে।
৩. ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা ইতিহাস পরীক্ষা করুন
ক্যামেরা কেনার আগে ব্র্যান্ডটির অতীত নিরাপত্তা ইতিহাস যাচাই করুন। যদি আগে ডেটা লিক, তথ্য ফাঁস বা বড় ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা হয়ে থাকে, তবে সেই ব্র্যান্ড থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু ব্র্যান্ড ক্লাউডের পরিবর্তে লোকাল স্টোরেজে ভিডিও রাখতে পছন্দ করে, যা নিরাপত্তার জন্য ভালো হতে পারে।
৪. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও নিরাপদ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করুন
দুর্বল ওয়াই-ফাই নিরাপত্তা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং ওয়াই-ফাই এনক্রিপশন চালু রাখুন। সম্ভব হলে ফায়ারওয়াল ও গেস্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
৫. নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন
ক্যামেরা বা তার অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট করুন। এই আপডেটগুলোর মাধ্যমে নতুন ফিচারের পাশাপাশি নিরাপত্তা দুর্বলতাও সমাধান হয়। যদি অটো আপডেট অপশন থাকে, তা চালু রাখুন এবং মাঝে মধ্যে চেক করুন যে আপডেট সঠিকভাবে হয়েছে কিনা।
৬. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে, শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করা সম্ভব নয়। এসএমএস কোড, ইমেইল ভেরিফিকেশন বা বায়োমেট্রিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যা সাইবার হামলাকারীদের জন্য ব্যাপক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
বাড়িতে সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে না, তবে আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সেগুলি অনেক বেশি নিরাপদ হয়ে উঠেছে। তবে, কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
সূত্র: সিনেট
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর