ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন- পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফক্স নিউজের সিনিয়র কৌশলগত বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জ্যাক কীন। শুক্রবার ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানি সরকারের বর্তমান অবস্থান গত ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল।
জ্যাক কীন বলেন, “আমি যদি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর অংশ হতাম, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতাম।” তিনি সতর্ক করে জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিকে অবহেলা করা ‘বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড”—অর্থাৎ সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এ সময় ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। ইরানের বিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরানের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
জ্যাক কীন বলেন, রাজনৈতিকভাবে ইরানি সরকার জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অর্থনৈতিকভাবে দেশটি ভয়াবহ সংকটে রয়েছে এবং পুনরুদ্ধারের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। সামরিক দিক থেকেও ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, “তারা কার্যত একটি যুদ্ধ হারিয়েছে। সিরিয়ায় তাদের প্রভাব নষ্ট হয়েছে, আর তাদের প্রক্সি শক্তিগুলো প্রায় ধ্বংস বা নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন মৌলিকভাবে দুর্বল অবস্থানে আছে।”
এই দুর্বলতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বলেন কীন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে, পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্য ভেঙে পড়ে এবং মানুষ নিজের অস্তিত্ব নিয়েই শঙ্কিত হয়ে ওঠে—যা বিক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে।
ফক্স নিউজের সঞ্চালক ব্রেট বেয়ার প্রশ্ন রাখেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার সম্ভাবনা আছে কি না। উত্তরে জ্যাক কীন বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানেন না, তবে ট্রাম্পের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “আমি জানি না তারা কী ভাবছে, কিন্তু আমি শুনছি তারা কী বলছে। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে খুবই সিরিয়াস।”
কীন তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন, ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নজিরের পর ট্রাম্পের হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তার মন্তব্য, “গত এক বছরে যা ঘটেছে, তার পরও যদি কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হবে।”
সূত্র: ফক্স নিউজ ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর