ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ার পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার এখনো মেলেনি। সাধারণ ভোক্তারা ক্রমশ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি সমাধান হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডার মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম ঘোষণা করলেও, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ তীব্র হয়।
বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। তবে সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি এবং বাড়তি দাম দিয়ে হলেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানীর আদাবর এলাকার মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বিডি২৪লাইভকে বলেন, “গ্রাহকরা প্রতিদিনই এসে গ্যাসের সিলিন্ডার চাচ্ছে, কিন্তু এখন শূন্য হাতে ফিরছে। দাম বেড়েছে আর গ্যাসও নেই, খুবই সংকট চলছে।” তিনি জানান, বাজারে কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ নেই বললেই চলে, আর যারা কিছু নিয়ে আসে তারা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। নিজের ব্যবহারের জন্যও এক সিলিন্ডার ১৯০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
হাসিব নামে এক ক্রেতা জানান, “প্রায় ৩-৪ ঘন্টা হয়ে গেল গ্যাসের সিলিন্ডার ক্রয়ের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছি, কিন্তু এখনও পাইনি। বেশিরভাগ দোকান বন্ধ এবং দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও ২০০০ টাকার নিচে বিক্রি হবে না বলে জানানো হয়েছে।” এমতাবস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করা নিয়ে খুবই সমস্যায় পরে গেছি বলে অভিযোগ তার।

ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, সরবরাহ সংকট এবং সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হচ্ছে না। তারা সিন্ডিকেটে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়ে এলপিজি আমদানি ও উৎপাদনে আরোপিত ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আশা করছেন, আমদানি ও উৎপাদনের উপর ভ্যাট কমানোর ফলে এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যদিও এটি কার্যকর হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর