ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করায় দেশটিতে সামরিক হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে তাকে বিভিন্ন সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যদিও এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে কোথায় এবং কীভাবে হামলা করা যেতে পারে—তা নিয়ে একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এসব পরিকল্পনার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্ভাব্য হামলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ এবং এটি নিশ্চিত করে না যে হামলা অবশ্যম্ভাবী।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনীর কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশটিতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হয়। এরপর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শনিবারও বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ও আহত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালগুলো উপচে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিহত নিরাপত্তা সদস্যের সংখ্যা অন্তত ১৪ জন বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, ‘ইরান হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’
ইরানের ওপর মার্কিন হামলার নজির আগেও রয়েছে। গত বছরের জুন মাসে প্রথমবারের মতো ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ছয়টি “বাঙ্কার বাস্টার” বোমা নিক্ষেপ করে তিনটি স্থাপনায়। এর মধ্যে ছিল ইরানের ফোরদো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা একটি পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গভীরভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে অবস্থিত।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর