ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো কথিত ‘অবৈধ’ সামরিক অভিযানের কয়েক দিন পর ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। এক নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনায় উঠে এসেছে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের ব্যবহৃত এক ‘রহস্যময় ও শক্তিশালী অস্ত্র’-এর কথা।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ শেয়ার করেন। সেখানে দাবি করা হয়, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যার প্রভাবে ভেনেজুয়েলার বহু সেনা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অস্ত্রের প্রভাবে অনেকের নাক দিয়ে রক্তপাত হয় এবং কেউ কেউ রক্তবমি করতে থাকেন। তবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
রাডার বিকল, আকাশে ড্রোন
নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযানের সময় দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, হঠাৎ করেই তাদের সব রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। কী ঘটছে বুঝে ওঠার আগেই আকাশে একের পর এক ড্রোন উড়তে দেখা যায়।
তিনি বলেন, “আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ রাডার বন্ধ হয়ে গেল, তারপর আমাদের অবস্থানের ওপর দিয়ে অনেকগুলো ড্রোন উড়তে শুরু করে।”
এর কিছুক্ষণ পর মাত্র আটটি হেলিকপ্টার এলাকায় অবতরণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণা, সেগুলো থেকে প্রায় ২০ জন মার্কিন সেনা নামানো হয়েছিল।
‘রহস্যময় অস্ত্র’
নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনারা এমন এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছিলেন, যা তিনি আগে কখনো দেখেননি বা শোনেননি। তাঁর ভাষায়, “ওরা শুধু বন্দুক নিয়ে আসেনি। তাদের কাছে এমন কিছু ছিল, যার মুখোমুখি আমরা আগে কখনো হইনি।”
পরবর্তী ঘটনাকে তিনি ‘নির্মম হত্যাযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “সংখ্যায় আমরা অনেক বেশি ছিলাম, কিন্তু কোনো সুযোগই পাইনি। তারা অবিশ্বাস্য নিখুঁততা ও দ্রুততায় হামলা চালাচ্ছিল।”
প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রতিটি মার্কিন সেনা যেন মিনিটে কয়েক শ রাউন্ড গুলি ছুড়ছিল। ওই ‘রহস্যময় অস্ত্র’-এর ভয়াবহতা এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের নীরবতা, বিতর্ক বাড়ছে
এই বিবরণ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আপনি যা করছেন থামান, আর এটি পড়ুন।’ তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব দাবি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রহস্যময় অস্ত্র’ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। ফলে মাদুরোকে আটক করার ওই অভিযানে আসলে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর