মোবাইল ব্র্যান্ড এইচটিসি এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। দেশীয় কারখানাতেই উৎপাদিত হচ্ছে মোবাইল ফোনটি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে এইচটিসি’র নতুন মডেল ‘ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ’। ফোনটি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে সেলেক্সট্রা লিমিটেড।
বিশ্বের প্রথম টাচস্ক্রিন হ্যান্ডসেট এবং প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতা হিসেবে খ্যাত এইচটিসি একসময় বিশ্ববাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশকে বেছে নিয়ে আবারও বাজারে ফিরছে এই কিংবদন্তি ব্র্যান্ড। দেশের কারখানায় তৈরি এই ফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নাম লেখালো।
এইচটিসির এটি একটি সাশ্রয়ী মডেলের ফোন। ফোনটিতে রয়েছে প্রসেসর হিসেবে ইউনিসক টাইগার টি৬১৫ অক্টাকোর প্রসেসর। ওয়াটারড্রপ এবং ইনসেল প্রযুক্তি ফিচার সমৃদ্ধ ৬.৭৪৫ ইঞ্চির এইচডি+ ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২০ হার্জের রিফ্রেশ রেট এবং ৪৮০ নিটস উজ্জ্বলতা। এর মেইন ক্যামেরা ৫০+০.০৮ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা যা এই দামের রেঞ্জের ফোনে বিরল। ফ্রন্ট ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেলের। ৬+১২৮ মেমোরির ফোনে ব্যাটারি ৫ হাজার এমএএইচ আর অপারেটিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ১৬। গ্রে এবং শ্যাম্পেন গোল্ড এই দুটি কালার ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাজারে এসেছে মডেলটি। এর দাম ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা।
সেলেক্সট্রা লিমিটেডের বিপণন বিভাগের প্রধান মামুন খান বলেন, “এই মূল্যস্তরে এইচটিসি ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় ফোন। বিশেষ করে ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং অন্যান্য সব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এটি প্রতিযোগীদের অনেক এগিয়ে রেখেছে। দেশে তৈরি হওয়ায় গুণগত মান নিশ্চিত করাসহ দামও রাখা গেছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।”
উল্লেখ্য, তাইওয়ান ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এক বছরের মাথাতেই তারা বিশ্বের প্রথম টাচস্ক্রিন ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেট ডিভাইস চালু করে, যা মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি স্থাপন করে। এরপর ২০০৪ সাল থেকে উইন্ডোজ মোবাইলভিত্তিক পিডিএ এবং স্মার্টফোন তৈরি শুরু করে, যা ২০০৬ সালে 'এইচটিসি' ব্র্যান্ডে রিলিজ হয়। ২০০৮ সালে এইচটিসি অ্যান্ড্রয়েডের জন্মদাতা হিসেবে পরিচিত হয়, যখন তারা প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন 'এইচটিসি ড্রিম' (টি-মোবাইল জি১) লঞ্চ করে। এর পর অ্যাপল-স্যামসাং-এর প্রতিযোগিতায় বাজার শেয়ার কমে গেলেও আবারও নিজের অবস্থানে ফিরে পেতে চলেছে বিখ্যাত এই ব্র্যান্ডটি।
এইচটিসি’র বাংলাদেশে ফিরে আসা কেবল একটি ব্র্যান্ডের পুনর্জন্ম নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্য একটি মাইলফলক। দেশীয় কারখানায় বিশ্বমানের ফোন তৈরির এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই মডেলের সঙ্গে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে সাত দিনের জন্য পাঁচ জিবি ডেটা ফ্রি অফার দেওয়া আছে। এছাড়াও বিশেষ দুইটি প্যাকেজ অফার চালু আছে। একটি ৯৯ টাকায় দশ জিবি ডেটা সাত দিনের জন্য অপরটি ২৯৮ টাকায় ৪০ জিবি ডেটা ৩০ দিনের জন্য। প্যাকেজ অফার দু’টি ছয় মাস পর্যন্ত যতবার খুশী নেওয়া যাবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর