চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডে তিনজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) ও শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন— নগরের বন্দর এলাকায় আজিয়ার রহমান (৩৫), ফটিকছড়ি উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জামাল উদ্দিন (৩০) এবং হাটহাজারী উপজেলায় মাহবুবুল আলম (৩৫)।
শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরের বন্দর থানাধীন পোর্ট কলোনি এলাকার নিমতলা সড়কে ছুরিকাঘাতে নিহত হন আজিয়ার রহমান। তিনি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজবাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের বাইক চালক ছিলেন এবং নগরীর বন্দরটিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম জানান, টহল পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আজিয়ারকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি অন্য কোথাও ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে বাইক চালিয়ে ওই স্থানে পৌঁছান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দিঘীরপাড় এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন ওরফে ছোট নাসিরের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই জামাল উদ্দিন নিহত হন। নাসির উদ্দিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনিও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে গেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জামাল ও নাসির মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির কাছে পৌঁছালে রাস্তায় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। দুর্বৃত্তরাও মোটরসাইকেলে ছিল।’
এদিকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভোর রাত ৪টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার কলাবাগান এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহবুবুল আলম নিহত হন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন এবং কলাবাগান এলাকার আলাউল হল নামে একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাতে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত মাহবুবুল আলমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, তিনটি ঘটনায় মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর