মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ রাকিন সিটি’ আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও প্রভাবশালীদের মধ্যে ফ্ল্যাট ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ এনে অবৈধ বরাদ্দ বাতিল ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’র প্রশাসক।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ভূমিহীন, বেকার ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য মিরপুরের কাফরুল এলাকায় ১৬.০২ একর জমিতে ‘বিজয় রাকিন সিটি’ প্রকল্পের সূচনা হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় প্রকল্পটি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের পরিবর্তে সংঘবদ্ধ দুর্নীতি ও বাণিজ্যিক লুটপাটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকল্পের মোট ৮৭০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৭৬৬টি ফ্ল্যাট রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ অমুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অবৈধভাবে বণ্টন করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ফ্ল্যাট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ইশতিয়াক আজিজ উলফাত অভিযোগ করেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান এ. টি. আহমেদুল হক চৌধুরী প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক আবাসনে রূপ দেন। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।
তিনি আরও বলেন, সমিতির সদস্য তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। বর্তমানে সমিতির অধিকাংশ সদস্যই অমুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের মাধ্যমেই ফ্ল্যাট দখল ও বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত ফ্ল্যাট ১০ বছর বিক্রি নিষিদ্ধ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে সমিতির অনুমতি বাধ্যতামূলক—এই নীতিমালাও পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়—
বিজয় রাকিন সিটি প্রকল্পের সব বরাদ্দ ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অমুক্তিযোদ্ধা ও অবৈধ বরাদ্দ বাতিল, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই করে ন্যায্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো করুণা চান না; তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান ফিরে পেতে চান।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর