দৈনন্দিন ব্যস্ততা বা কাজের চাপে অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। এর ফলে মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, কিডনিতে পাথর, কিডনির ক্ষতি এমনকি পেলভিক পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাবার হজম, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা ও বর্জ্য নিষ্কাশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সাধারণত ২ থেকে ৩ লিটার পানি প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই শৌচাগারে যাওয়ার ঝামেলা বা নানা অজুহাতে পর্যাপ্ত পানি পান এড়িয়ে চলেন। এই অভ্যাস থেকেও ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তির দিনে অন্তত চারবার প্রস্রাব হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, ‘প্রস্রাবের সংখ্যা ও পরিমাণ দেহের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। প্রস্রাব কম হওয়া বা চেপে রাখা দেহে বিষাক্ত বর্জ্য জমাতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
দেহের নানান ক্রিয়ায় পানি যেমন অপরিহার্য। প্রস্রাব কোষের গঠন ঠিক রাখতে এবং ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দিতেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, দিনে আটবারের বেশি প্রস্রাব হলে এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। বারবার অল্প প্রস্রাব হলে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। চা, কফি, চকলেট বা মিষ্টি পানীয় পানে বিরত থাকতে হবে। কেন না, এগুলো মূত্রবর্ধক। তবে বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট বৃদ্ধি, গর্ভবতী নারীদের জরায়ুর চাপেও অধিকবার হতে পারে।
ডাক্তার পরামর্শ দেন, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা রক্তে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধিতেও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে সমাধান না হলে বা অন্য লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক দেখানো জরুরি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর