বর্তমানের দ্রুতগতির জীবনে সময়ের সঠিক ব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় ডেডলাইনের চাপ এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সময় ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশল অবলম্বন করলে কম সময়ে বেশি কাজ শেষ করার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমিয়ে জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
সম্প্রতি গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সময়ের সঠিক ব্যবহারের জন্য ৭টি বিশেষ কৌশলের কথা জানিয়েছেন যা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী—সবার জন্যই অত্যন্ত কার্যকর।
সময়ের সদ্ব্যবহারের প্রথম ধাপ হিসেবে ‘মাইন্ড ম্যাপিং’ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কৌশল। এতে কাজগুলোকে একটি চিত্রের মাধ্যমে সাজিয়ে নেওয়া হয়, যা পুরো পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
এরপর কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে ‘আইজেনহাওয়ার ম্যাট্রিক্স’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে কাজগুলোকে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ—এমন চারটি ভাগে ভাগ করে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট হওয়া রোধ করা হয়।
এছাড়া লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘SMART’ (নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, বাস্তবসম্মত, প্রাসঙ্গিক ও সময় নির্ধারিত) পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাজের অগ্রগতি বোঝা সহজ হয়।
কাজের মনোযোগ বাড়াতে ‘পোমোডোরো কৌশল’ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই পদ্ধতিতে ২৫ মিনিট টানা কাজ করার পর ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়া হয়, যা ক্লান্তি দূর করে কাজের গতি বজায় রাখে।
আধুনিক যুগে অনেকের মধ্যে একসঙ্গে অনেক কাজ বা ‘মাল্টিটাস্কিং’ করার প্রবণতা দেখা যায়, তবে বিশেষজ্ঞরা এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। তাদের মতে, এক সময়ে একটি কাজে মনোযোগ দিলে কাজের মান বৃদ্ধি পায় এবং ভুলের পরিমাণ কমে।
এর পাশাপাশি ডিজিটাল টুলস বা প্রযুক্তির ব্যবহার সময় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে, তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
পরিশেষে, নিজের কাজের সীমা জানা এবং অপ্রয়োজনীয় অনুরোধে ‘না’ বলতে শেখা সময় বাঁচানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া সময়ের অপচয় ঘটায়।
নিয়মিত এই কৌশলগুলো চর্চার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সময় ব্যবস্থাপনা কেবল একটি দক্ষতা নয়, বরং এটি জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেওয়ার একটি মাধ্যম। আজ থেকেই সময়কে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া নিশ্চিত।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর