নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মিজানুর রহমান ওরফে রনি নামের এক যুবককে পূর্ব শত্রুতার জেরে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে আইনের শাসন নিয়ে। ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে মব সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে হত্যার পর এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, কোনো হত্যা সমর্থনযোগ্য নয় এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
রবিবার দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার পুলিশ বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের শ্যালক আরাফাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি সকালে মনিনগর গ্রামে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই সময় তার বাবা ওবায়দুল হকসহ তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং হামলায় তার হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে তার বাবা এখনও চিকিৎসাধীন। আরাফাত আরও অভিযোগ করেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান কালিরহাট বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে ওই হামলার বিচার দাবি করেন। এ সময় নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা মাসুদের ইন্ধনে তার উপস্থিতিতে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে মিজানকে আটক করে। এরপর তাদের বাড়ির নুর মোহাম্মদ বাচ্চু (৬০), তার ছেলে যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), শিহাব উদ্দিন (২২), নুর উদ্দিন (৩৫)সহ ১৫-১৬ জন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মিজানের মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘটনার পর থেকে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও নুর মোহাম্মদ বাচ্চুর মুঠোফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি ও যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির ৬টি মামলা ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। তবে কোনো হত্যাই সমর্থনযোগ্য নয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর