সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অবস্থায় পাওনা টাকা আত্মসাৎ এবং পরিকল্পিত মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষ শাহনুরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী মোঃ শেখ আলমগীর হাসান।
এসময় তিনি আরও জানান,তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে মানহানী করছে, আর তার দাবি,পাওনা টাকা আত্মসাৎ করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ন্যায্য পাওনা অর্থ উদ্ধারের দাবি জানান। ভোক্তভোগী আলমগীর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের বাসিন্দা এবং শেখ আব্দুল আজিজের পুত্র। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ আলমগীর হাসান জানান,প্রতিপক্ষ শাহানুর রহমান সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের বাসিন্দার সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিচয়ের পর তার ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের প্রস্তাব দেন। পরে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরের বুফোর্ড হাইওয়ে এনই এলাকায় অবস্থিত একটি সিটগো গ্যাস স্টেশনে মাসিক ৬ হাজার মার্কিন ডলার বেতনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় ১৮ মাস কর্মরত ছিলেন। প্রথম ছয় মাসে বেতন বাবদ তার পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ লাখ টাকা। এ সময় শাহানুর তাকে ব্যবসার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন। তখন আলমগীর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে তার বকেয়া বেতনের টাকা ছাড়াও নগদ আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন যা ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল মাসে শাহানুর রহমান তার নিজ বাড়িতে এসে ওই টাকা গ্রহণ করেন বলে আলমগীর দাবি করেন। পরবর্তীতে আরও এক বছর তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। একপর্যায়ে বেতন ও ব্যবসার লভ্যাংশ মিলিয়ে তার মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ২ লাখ ৭১ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শেখ আলমগীর হাসান আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পাওনা অর্থ চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এরই মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যা পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর অংশ বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন,পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণাও দেন শাহানুর রহমান। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর