• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৪ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
আবদুল কাদির
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৩ বিকাল

গণভোটের লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার: আলী রীয়াজ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি/২৬) নগরীর টাউনহল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি।

জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় গণভোট অপরিহার্য প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই জনগণকেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়।”তিনি আরও বলেন, গণভোটে বিজয়ের মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। এখন সময় এসেছে জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের।

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব সংসদের উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধন একটি “ছেলেখেলায়” পরিণত হয়েছিল। তিনি পঞ্চদশ সংশোধনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই মাত্র চার মিনিটের বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। কোনো দল মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেলেও সরকার গঠন করতে না পারলে সেই দল উচ্চকক্ষে ৫টি আসন পাবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন বাধ্যতামূলক হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের প্রয়োজন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বাস্তবে সব সিদ্ধান্তই সরকারপ্রধানের ইচ্ছানির্ভর হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির নির্বাচনও হয় পরোক্ষভাবে, ফলে সরকার মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হন। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণে সংবিধান সংস্কার জরুরি। সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের বিধান এমপিদের স্বাধীন মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়। সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারবেন।

সরকারি কর্মচারীদের গণভোট প্রচারণা সরকারি কর্মচারীদের গণভোট প্রচারণা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান, সংস্কার কমিটি, অধ্যাদেশ কিংবা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে গণভোটে সরকারি কর্মচারীরা ইতিবাচক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান -বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল লক্ষ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা।

তিনি বলেন, “আমরা এমন সমাজ চাই, যেখানে মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের মাধ্যমে, পারিবারিক পরিচয়ে নয়।”তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—যেমন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা বাদ যাবে—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি সবাইকে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হবে নাকি স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরে যাবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই গণভোট। তিনি বলেন, সংবিধানের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে সংবিধান সংস্কার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য ইসি সংস্কার এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য পিএসসি সংস্কার প্রয়োজন। এসব সংস্কারের সামগ্রিক রূপরেখাই হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’, যা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ (সংবিধান সংস্কার) নামে পরিচিত।

উপস্থিতি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ ছাড়া বিভাগীয় দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ, চার জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]