নাটোরে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের প্রকোপে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন খামারি ও কৃষকরা। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারি টিকার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ তাদের।
লালপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম'সহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে খামারি ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু লালপুরে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬১২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৩৬টি গরু মারা গেছে।
এ রোগে খামারিদের মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। লালপুর উপজেলার অমৃতপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন জানান, তার একটি গরু ১৫ দিন ধরে লাম্পিতে আক্রান্ত। চিকিৎসা চললেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
পশুচিকিৎসক মো. দেলোয়ার হোসেন ও আ. মমিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এলএসডি’র ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসায় অধিকাংশ গরু সুস্থ হলেও বাছুরের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া ও আড়বাব ইউনিয়নে প্রায় ২০টি গরু মারা গেছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার ডোজ এলএসডি (লাম্পি) টিকার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫০ ডোজ। তবে খামারিদের প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে বেসরকারিভাবে প্রায় ২০ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার সরকারি এক হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৯ হাজার ডোজ টিকা পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোছা. নাজিয়া আক্তার জানান, ক্যাপ্রিপক্স ভাইরাসের সংক্রমণে এলএসডি রোগ হয়, যা মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। শীতের শেষে সময়মতো টিকা দিলে এ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর