পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। যা পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
সেই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সমাজে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আনা। আর সেই পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটবে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের মধ্য দিয়ে। রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত র্যালী পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। আলোচনা সভা শেষে একটি র্যালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অংশীজন হচ্ছেন রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা। তারাও এখন প্রস্তুত। বহু বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এবারের নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে তাদের মধ্যেও প্রস্তুতির ঘাটতি নেই। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জুলাই সনদে যেসব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন খাতে কাক্সিক্ষত সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিফলন। ওই সুপারিশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গণভোটের মাধ্যমে প্রশ্ন আকারে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাইয়ের পরিবর্তনের দাবিগুলোর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হবে।’ পরে উপদেষ্টা রাজবাড়ী শহরের ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশে আর কখনো স্বৈরাচার ফিরে আসতে পারবে না।’ ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। নির্বাচন যথা সময়েই হবে।’
হ্যাঁ ভোট দিলে সাধারণ মানুষদের ভাগ্যেরে পরিবর্তন হবে মন্তব্য করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এবার ভোট দিতে যেতে হবে। হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে।’ যেমন ২০ বছর পর মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে, মানুষ ভোট দিতে যাবেন। আগামী যাতে স্বেরাচারী ব্যবস্থা ফিরে না আসে তার জন্য হ্যাঁ ভোট দিবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইয়াসীন, যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ প্রমূখ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর